'এটা কি ২৪৪১১৩৯' গানটি এখন লিখলে কোন নম্বর দিতেন অঞ্জন দত্ত?

আপডেট : ০৭ মে ২০২৪, ১১:১০ পিএম

একটা গান কীভাবে বিশেষ বয়সী একদল মানুষের সবার মনের কথা হয়ে উঠতে পারে, তার প্রমাণ দেখা গিয়েছিল অঞ্জন দত্তর 'বেলা বোস' গানটিতে। 'এটা ২৪৪১১৩৯, বেলা বোস তুমি পারছো কি শুনতে?’ ১৯৯৫ সালে এই গানটি রচনা করেছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অঞ্জন দত্ত। আজও এই গান সমান জনপ্রিয় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে।

দিন বদলেছে। ১৯৯৫ সালে অঞ্জন দত্ত  যখন গানটি রচনা করেছিলেন সেই সময় ল্যান্ডলাইন ফোন ছিল মানুষের বাড়িতে-বাড়িতে। মোবাইল ফোন নিয়ে ঘোরাফেরা করার মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই কম। যাদের প্রচুর টাকা, তাদের হাতেই একমাত্র ছিল কালো রঙের বিরাট বড় একটি অ্যান্টেনা-যুক্ত মোবাইল ফোন দেখতে পাওয়া যেতো। কথা বলতে গেলে প্রতি মিনিটে খরচও হতো মোটা টাকা। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরই ছিল সেই ফোন। অথচ এখন দৃশ্যপট উল্টে গেছে। সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। ল্যান্ডফোনের ব্যবহার নেই বললেই চলে। ঠিক এ সময় দাঁড়িয়ে এই গানটি লিখতে হলে অঞ্জন দত্ত কোন নম্বর ব্যবহার করতেন, এমন প্রশ্ন হয়তো অনেকেই ভাবেন। নিশ্চয়ই কোনো ল্যান্ডলাইন নম্বর তিনি লিখতেন না। সম্প্রতি এ যুগে দাঁড়িয়ে ২৪৪১১৩৯ গানটি কীভাবে লিখতেন, সেই নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা-গায়ক-পরিচালক অঞ্জন নিজেই।

গায়ক-সঙ্গীত নির্মাতা-পরিচালক-অভিনেতা অঞ্জন দত্তকে এ প্রশ্নই করা হয়েছিল। অঞ্জনও জবাব দিয়েছিলেন মজা করেই। উত্তরে বলেছিলেন, “আমি হয়তো কোনও ল্যান্ডলাইনের নম্বরই দিতাম না। কোন একটা মোবাইল নম্বরে গানের লাইন হত। হয়তো ফোন কল করতামই না। স্রেফ একটা হোয়াটসঅ্যাপ কল করতাম। কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের কথা বলতাম। এখন তো প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গিয়েছে। আমার গানটাও অন্যরকম হত।

কলকাতার বাঙালি পরিবারের ছেলে অঞ্জন দার্জিলিংয়ে বড় হয়েছিলেন। সেখানকার কনভেন্ট স্কুলেই পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর নানা সৃষ্টি মধ্যেও ঘুরে ফিরে আসে পাহাড়ি শহর দার্জিলিং। বেলা বোস অঞ্জনের সেরা সৃষ্টি মনে করা হয়। নতুন যুগে লেখা গান কেমন হবে তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। কারণ যে গান অঞ্জন ইতোমধ্যে লিখে ফেলছেন তার আবেদন আরো বহুকাল মানুষের মধ্যে থাকবে, নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হবে বাঙালি এমনটাই মনে করা হয়।

AS
আরও পড়ুন