পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী এক সপ্তাহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে দেশের একাধিক নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (৫ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়, ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত অথবা এর সন্নিহিত সময়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম, বরাক অববাহিকা, ত্রিপুরা ও মিয়ানমারের পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার কিংবা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ বার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপ দেশের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাই গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হলেও আগামী দুই দিনে পানি কিছুটা কমতে পারে। তবে ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানির প্রবাহ ও বন্যা পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন