প্রতি মিনিটে গড়ে চার শিশুর ক্যানসার শনাক্ত

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

বিশ্বে প্রতি মিনিটে গড়ে চার শিশুর ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। তবে আর্থিক অসচ্ছলতা, চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার চাপের কারণে অনেক শিশুর পরিবার সংকটে পড়ে। ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো রোগ শনাক্ত করা দরকার। কারণ দ্রুত যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে অনেকেই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ অবস্থায় শিশু ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির সেবা ভবনে সেমিনার অন চাইল্ডহুড ক্যানসার: সচেতনতা, সেবা ও আশা শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। শৈশব ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে আশিক, ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুড ক্যানসার এবং ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যানসার (ডব্লিউসিসি) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পিকেএসএফ সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ঢাকা জেলা প্রশাসক বদিউর রহমান।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বে প্রতি মিনিটে গড়ে চার শিশুর ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশেও শিশু ক্যানসার রোগী বাড়ছে। একটি শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত হলে শুধু শিশুটিই নয়, পুরো পরিবারকেই দীর্ঘ চিকিৎসা, চিকিৎসার ব্যয়, মানসিক চাপ এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ জোগানো এবং মানসিক চাপের পাশাপাশি অনেক পরিবারকে আবাসন সংকটেও পড়তে হয়। তাই শিশু ক্যানসারের চিকিৎসার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশু ও তার পরিবারের জন্য আবাসন, পুষ্টি, মানসিক সহায়তা, শিক্ষা এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ার নিশ্চিত করাও জরুরি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আশিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম অপারেশনস) মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ। আশিক প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিয়া খানম আনী মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অনলাইনে আলোচনায় অংশ নিয়ে আশিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতার কন্যা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহীন হামিদ বলেন, আশিক ফাউন্ডেশনের রয়েছে আশিক শেল্টার, প্লে-সেন্টার, সাপোর্ট-এ-লাইফ, প্যালিয়েটিভ কেয়ার ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। তিনি জানান, ২০০০ সালে ২০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা আশিক শেল্টার বর্তমানে ঢাকার বাইরে থেকে চিকিৎসার জন্য আসা শিশু ক্যানসার রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে।

আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর চিকিৎসা যেন বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যে ২০০৪ সাল থেকে সাপোর্ট-এ-লাইফ কর্মসূচির মাধ্যমে অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও কাজ করছে আশিক ফাউন্ডেশন। ক্যানসারজয়ী শিশুদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে চালু করা হয়েছে সারভাইভরস এডুকেশন সাপোর্ট প্রোগ্রাম।

আশিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আসিফ হুসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- লায়ন সামিউল মুক্তাদির,  ইসলামিয়া আই হসপিটালের পরিচালক (কমিউনিটি সার্ভিস) গাজী মো. নজরুল ইসলাম ফয়সাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা কামরুল জাহিদ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. চৌধুরী ইয়াকুব জামাল, সাবেক সচিব বদিউর রহমান, মো. ফারুক হোসাইন, নাঈম খান এবং ক্যানসারজয়ী রায়হান মিয়া।

আরও পড়ুন