বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস প্রতি বছর ১০ অক্টোবর পালিত হয়। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি এবং চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই দিবসটি পালন করা হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বেগ, বিষণ্নতা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিংবা নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু সামাজিক লজ্জা, ভুল ধারণা ও সচেতনতার অভাবে অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে দ্বিধা করেন।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য—‘অভিজ্ঞতার কথা শোনা হোক: বাস্তব কণ্ঠস্বর, বাস্তব পরিবর্তন’ (Lived Experiences Heard: Real Voices, Real Change)। এবারের প্রতিপাদ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁদের মতামতকে নীতি, চিকিৎসাসেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

ডব্লিউএইচও বলছে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা শোনাই যথেষ্ট নয়; সেবার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নেও তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা যেন মর্যাদা, স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের সঙ্গে পরিবার ও সমাজের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পেতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

সংস্থাটির মেন্টাল হেলথ অ্যাটলাস ২০২৪ জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৩ শতাংশ দেশ মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা থেকে কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ তথ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সমাজের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। 

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ, চিকিৎসা সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং সহায়তা চাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধা কাটানো গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও গণমাধ্যম—সব ক্ষেত্রেই মানসিক সুস্থতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর মাধ্যমে পরামর্শ ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সহজলভ্য করা জরুরি।

মানসিক চাপে থাকা কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁকে দোষারোপ না করা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিতে উৎসাহিত করা—এসব ছোট উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে উল্লেখযোগ্য অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের বার্তা হলো—মানসিক অসুস্থতা লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়, আর সহায়তা চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণও নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে, বৈষম্য কমিয়ে এবং সহজলভ্য ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করেই গড়ে তোলা সম্ভব আরও সচেতন ও সহমর্মী সমাজ।

এমএজেড
আরও পড়ুন