বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ? কারণ জানতে প্রয়োজন ৫ ধরনের পরীক্ষা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব ও তলপেটে ব্যথা—ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের (ইউটিআই) পরিচিত লক্ষণ। চিকিৎসায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও সংক্রমণ বারবার ফিরে এলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) হলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন। এতে সাময়িকভাবে উপসর্গ কমলেও কিছুদিন পর আবার জ্বালাপোড়া, ব্যথা কিংবা ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘন ঘন ইউটিআই হলে শুধু অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়। সংক্রমণের পেছনে ডায়াবেটিস, কিডনিতে পাথর, প্রস্রাবের পথে বাধা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, অল্প অল্প করে বারবার প্রস্রাব হওয়া, তলপেটে ব্যথা এবং জ্বর ইউটিআইয়ের সাধারণ লক্ষণ। বারবার এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েক ধরনের পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

১. ইউরিন রুটিন ও ইউরিন কালচার

ইউটিআই শনাক্ত করার জন্য প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা এবং কালচার গুরুত্বপূর্ণ। রুটিন পরীক্ষায় প্রস্রাবে শ্বেত রক্তকণিকা, নাইট্রাইট, রক্ত বা গ্লুকোজের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আর ইউরিন কালচারের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটানো ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।

সম্ভব হলে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগে প্রস্রাবের নমুনা দিতে হয়। তবে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে নমুনা সংগ্রহের জন্য চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করা উচিত নয়।

২. ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি

ডায়াবেটিস থাকলে ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসাও জটিল হতে পারে।

তাই বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে চিকিৎসক ফাস্টিং ব্লাড সুগার, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য গ্লুকোজ পরীক্ষা এবং এইচবিএ১সি করানোর পরামর্শ দিতে পারেন। এইচবিএ১সি পরীক্ষায় গত প্রায় তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার ধারণা পাওয়া যায়।

৩. ইউএসজি কিডনি, ইউরেটার ও ব্লাডার (KUB)

কিডনি, মূত্রনালি ও মূত্রথলির আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় পাথর, প্রস্রাবের পথে বাধা কিংবা মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমে থাকার মতো সমস্যা শনাক্ত করা যেতে পারে।

প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রস্রাব থেকে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে চিকিৎসক প্রয়োজনে প্রস্রাবের পর মূত্রথলিতে কতটা প্রস্রাব অবশিষ্ট থাকছে, সেটিও পরীক্ষা করতে পারেন।

৪. সিরাম ক্রিয়েটিনিন

কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করা হয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা এবং প্রয়োজনে ইজিএফআর (eGFR) বিশ্লেষণ করে কিডনি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বারবার সংক্রমণের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা, প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা বা অন্য জটিলতার আশঙ্কা থাকলে এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

৫. বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ পরীক্ষা

সব রোগীর জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। বয়স, লিঙ্গ, উপসর্গ ও পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস অনুযায়ী অতিরিক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে: বারবার ইউটিআই হলে প্রস্টেটের সমস্যা আছে কি না, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

যৌনবাহিত সংক্রমণের সন্দেহে: প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা করাতে পারেন চিকিৎসক।

প্রস্রাবে বারবার রক্ত গেলে: কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

পাথর বা জটিলতার সন্দেহে: সিটি কিডনি-ইউরেটার-ব্লাডার (CT KUB) কিংবা সিস্টোস্কোপির পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?

প্রস্রাবে সংক্রমণের সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের এক পাশে ব্যথা, বমি কিংবা খুব অসুস্থ বোধ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এগুলো কিডনিতে সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেরি করা উচিত নয়।

মনে রাখবেন: বারবার ইউটিআই হলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা একই ওষুধ বারবার ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। সবার জন্য পাঁচটি পরীক্ষাই বাধ্যতামূলক নয়। রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করবেন।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত