মিষ্টি স্বাদ, সহজপাচ্যতা এবং প্রচুর পুষ্টিগুণের কারণে পেঁপেকে অনেকেই ‘প্রাকৃতিক ওষুধ’ বলে থাকেন। এতে থাকা ভিটামিন এ, সি, ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভিন্ন তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব মানুষের শরীরের জন্য পেঁপে সমান উপকারী নয়। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় পেঁপে খাওয়া উপকারের চেয়ে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
সম্প্রতি ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা (এনআইএইচ), সায়েন্স ডাইরেক্ট ও ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের গবেষণায় পাঁচটি বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
১. গর্ভবতী নারী
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে থাকা ল্যাটেক্স ও পাপেইন এনজাইম গর্ভাশয়ে অকাল সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে, যা সময়ের আগেই প্রসব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি এড়াতে পেঁপে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ রাখাই নিরাপদ।
২. ল্যাটেক্স অ্যালার্জি আক্রান্ত ব্যক্তি
সায়েন্স ডাইরেক্টের গবেষণা অনুযায়ী, পেঁপেতে ‘চিটিনেজ’ নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে। যাদের ল্যাটেক্সে (রাবার বা কষ জাতীয় দ্রব্য) অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের শরীরে এই প্রোটিন তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে হাঁচি, চুলকানি, এমনকি মারাত্মক শ্বাসকষ্টও হতে পারে।
৩. হৃদস্পন্দনজনিত সমস্যায় আক্রান্তরা
যারা হার্ট অ্যারিথমিয়া বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য পেঁপে বিপজ্জনক হতে পারে। পেঁপেতে থাকা সায়ানোজেনিক যৌগ শরীরে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। এটি স্বাভাবিক ব্যক্তিদের জন্য সমস্যা না হলেও হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করে।
৪. হাইপোথাইরয়েডিজম রোগী
পেঁপের কিছু উপাদান থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা দেয়। হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে দিতে পারে। ফলে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি বা ঠান্ডার সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫. কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি যাদের
ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন জানায়, পেঁপেতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরে গিয়ে ‘অক্সালেটে’ রূপান্তরিত হয়। এই উপাদানটি ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোন’ বা কিডনিতে পাথর তৈরির মূল কারণ হতে পারে। তাই যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, তাদের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক ও পরিমিত হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে ওপরের পাঁচটি শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
রাতে রুটি খাওয়া কি আসলেই স্বাস্থ্যকর
ইনস্ট্যান্ট নুডল্স: সময়ের সাশ্রয় নাকি স্বাস্থ্যঝুঁকি
সরিষার তেলের বিকল্প হতে পারে অলিভ অয়েল
