চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রেস বা চাপ হলো শারীরিক, মানসিক বা আবেগঘন কিছু মূহুর্ত যা দৈহিক বা মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে হয়ে থাকে। তবে মানসিক চাপ কেবল মনে নয়, এটি ত্বকেও নানাভাবে প্রভাব ফেলে। স্বাভাবিকভাবে মানসিক অশান্তি বেশি হলে কর্টিসেলের মতো হরমোনের চাপ বৃদ্ধির কারণে এটি ত্বকের গ্রন্থিগুলোতে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে। এতে ত্বকে ব্রণ এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।
তাছাড়া সোরিয়াসিস, রোসেসিয়া বা একজিমার মতো সমস্যা থাকলে মানসিক চাপ ত্বকের সমস্যাগুলোকে আরও দ্বিগুণ করে তোলে। অর্থাৎ আপনার ত্বকে তা বিভিন্নভাবে ফুটে উঠে। ফলে আমবাত, ফুসফুড়ি ইত্যাদি দেখা দেয়। আপনার ত্বকের ওপর পড়া মানসিক চাপের চিহ্ন কমানোর সহজ উপায়গুলো জেনে নিন-

ত্বকের যত্ন: প্রথমেই আপনাকে ত্বকের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, আপনার ত্বকে সঠিক পরিচর্যা করুন।
শারীরিক ব্যায়াম: মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়াম করুন। এটি কেবল আপনাকে ফিটই রাখে না, বরং ত্বককেও সুস্থ রাখে।
‘মি’ টাইম উপভোগ করুন: ‘মি’ টাইম বলতে– হাজার ব্যস্ততায় নিজের জন্য কিছু সময় বের করুন। হতে পারে তা ১০ মিনিট বা ২০ মিনিট। সময় অনুযায়ী একটি ভালো বই পড়ুন, মুভি দেখুন, বাগান করুন।
হাঁটুন: ভোর বেলাতে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন এবং ২০ বা ৩০ মিনিটের জন্য হাঁটুন। এটি আপনার মনকে সুস্থ রাখবে।
যোগ-ব্যায়াম করুন: মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে যোগ ব্যায়াম করুন। গভীর শ্বাস নিন। কিছু সময় চোখ বন্ধ রাখুন।
পর্যাপ্ত সময় ঘুমান: দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমানোর সময়টাতে আপনার ত্বক পুনরুজ্জীবিত হয়।
আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে ‘না’ বলুন: অন্যের হ্যাঁ’তে হ্যাঁ না মিলিয়ে আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে ‘না’ বলতে শিখুন। সর্বোপরি নিজের মতবাদকে গুরুত্ব দিন।
থেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন: হতাশা যেন কোনোভাবেই আপনাকে মানসিকভাবে গ্রাস করতে না পারে, এজন্য থেরাপিস্টের সঙ্গে মনের কথাগুলো শেয়ার করুন। আপনার সমস্যার কথা জানান। এতে আপনার ত্বকের ওপর পড়ে যাওয়া মানসিক চাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।
মনে রাখবেন, ত্বকের যত্ন বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজনীয়তা। ত্বকে যেন কোনোভাবেই মানসিক চাপের চিহ্ন না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। শারীরিক এবং মানসিকভাবে নিজেকে ভালো রাখুন।
