বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে রাত জেগে খেলা দেখার প্রবণতা বাড়ে অনেকের মধ্যেই। এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খেলা দেখার সময় মনোযোগের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলা হয়, ফলে চোখের আর্দ্রতা কমে যায়। একটানা ডিজিটাল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে ডিজিটাল আই স্ট্রেন বা চোখের ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
এক রাতে একাধিক ম্যাচ দেখলে চোখ পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। মোবাইল বা টিভির দ্রুতগতির দৃশ্য অনুসরণ করতে চোখকে ক্রমাগত ফোকাস পরিবর্তন করতে হয়, যা অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।
এর ফলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, ভারী লাগা এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় একইভাবে তাকিয়ে থাকায় চোখের পেশিগুলোর ওপরও চাপ পড়ে, যা অস্বস্তি ও মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দেন-
• প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ড বিরতি নেওয়া (20-20-20 নিয়ম)
• স্ক্রিন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা (প্রায় এক হাত দূরত্বে)
• রাতে নাইট মোড বা ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার করা
• পর্যাপ্ত পানি পান করা-চোখ শুষ্ক হওয়া কমায়
ম্যাচ শেষে অনেকেই হাইলাইটস দেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানো চালিয়ে যান। এতে স্ক্রিন থেকে নির্গত ব্লু লাইট শরীরের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিনের স্বাভাবিক উৎপাদনে বাধা দিতে পারে।
ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুমের মান কমে যায় এবং পরদিন ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে।
বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে চোখের যত্ন উপেক্ষা করা উচিত নয়। সামান্য কিছু অভ্যাস মেনে চললে প্রিয় খেলা উপভোগের পাশাপাশি চোখও থাকবে সুস্থ ও স্বাভাবিক।
**দীর্ঘদিন ধরে ঝাপসা দেখা, চোখে জ্বালাপোড়া, ব্যথা, অতিরিক্ত শুষ্কতা বা মাথাব্যথা অব্যাহত থাকে, তাহলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।**
চোখে মিলতে পারে মস্তিষ্কের রোগের আভাস, যা বলছে গবেষণা
ভুল অভ্যাসে নষ্ট হচ্ছে কিডনি, রক্ষার উপায় কী
যে অভ্যাসগুলো নীরবে হার্টের ক্ষতি করছে