বাংলা সাহিত্যের অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ও মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই কালজয়ী সাহিত্যিক। দ্বিশতক পেরিয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর মহিমা আজও অম্লান।
জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত ও মা জাহ্নবী দেবীর কোল আলো করে আসা মধুসূদনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামের মৌলভী খন্দকার মখমলের কাছে। ১৮৩৩ সালে কলকাতায় গিয়ে ইংরেজি, ল্যাটিন ও হিব্রু ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন তিনি। ১৮৪৩ সালে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করার পর বিশপস কলেজ থেকে গ্রিক ও সংস্কৃত ভাষায় জ্ঞানার্জন করেন।
পরবর্তীতে মাদ্রাজ ও ইংল্যান্ড প্রবাস জীবনে তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। ১৮৬১ সালে তাঁর অমর সৃষ্টি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৮৫৮ সালে ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তাঁর রাজকীয় অভিষেক ঘটে। তাঁর হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন হয়। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন এই মহান কবির জীবনাবসান ঘটে।
কবির স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ি আজ দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এক তীর্থস্থান। প্রতিবছর দেড় লক্ষাধিক দর্শনার্থী টিকিট কেটে কবির পৈতৃক বাড়ি ও সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মধুপল্লী আজও পূর্ণাঙ্গ পর্যটনবান্ধব হয়ে ওঠেনি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে পিছিয়ে আছে এই পর্যটনকেন্দ্রটি।
সাগরদাঁড়ি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান জানান, “অবকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এবার মেলা না থাকলেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।”
মহাকবির এই জন্মলগ্নে ভক্ত ও অনুরাগীদের দাবি—সাগরদাঁড়িকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।
বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঘোষণা, পাচ্ছেন যারা
তারাশঙ্করের কবি উপন্যাসে অন্ত্যজ শ্রেণি ॥ জান্নাতুল যূথী
