রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরও ৫শ’ থেকে ৬শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলার পর পুলিশসহ যৌথবাহিনীর অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে এনইআইআর পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয় এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় আনুমানিক দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আগারগাঁও এলাকায় বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিটিআরসি ভবনের কাচের দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ভাঙচুরের সময় বিটিআরসি ভবনের সামনে পার্ক করা ৫১ আসনবিশিষ্ট একটি এসি স্টাফ বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৭০৩৫) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়। সব মিলিয়ে বিটিআরসি ভবন ও যানবাহন ভাঙচুরে আনুমানিক দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৪৫ জনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা আরও ১০ জন পলাতক আসামির নাম প্রকাশ করেন এবং তাদের সহায়তায় এ নাশকতা চালানো হয়েছে বলে স্বীকার করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। বাকি অজ্ঞাত আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে দেশে মোবাইল ফোনের দাম কমাতে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ ও আমদানি করা মোবাইল ফোনে শুল্ক কমিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
এছাড়া, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হলেও আগামী ৯০ দিন অবৈধ ও ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে গ্রাহকদের উদ্দেশে তিনি এ বার্তা জানান।
পোস্টে ফয়েজ তৈয়্যব লেখেন, এনইআইআর চালুর পরেও আগামী ৯০ দিন কারো অবৈধ কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। সুতরাং বিনীতভাবে অনুরোধ করছি কেউ প্যানিকড হবেন না।
উল্লেখ্য, এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছিলেন মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা। সরকারের অভিযোগ, একটি অংশ অবৈধ পথে কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড, ব্যবহৃত ও পুরনো ফোন দেশে এনে বাজারজাত করছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধভাবে দেশে আসা ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না। একইসঙ্গে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা পুরনো ফোনের ব্যবসাও বন্ধ হবে। তবে এনইআইআর চালুর আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কোনো ফোন বন্ধ করা হবে না।
এর আগে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেয়া হলেও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে তা ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। এ নিয়ে গত ৭ ডিসেম্বর মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করে দিনভর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছিলেন।
এনইআইআর কার্যকরের পর থেকে দেশে কেবল বৈধ ও সরকার অনুমোদিত মোবাইল হ্যান্ডসেটই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।
বিটিআরসি ভবনে হামলা-ভাঙচুর, আটক ২৬
মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমনো হয়েছে: প্রেস সচিব
৯০ দিনের জন্য বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ-ক্লোন মোবাইল ফোন
এনইআইআর চালু হচ্ছে আজ, বন্ধ হবে যেসব হ্যান্ডসেট