রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতজনকে তিন দিনের রিমান্ড নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদির শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়েছে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দাবি, তরা খেলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সদস্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, নেটওয়ার্ক এবং কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল এবং জামিনের আবেদন করেন। তাদের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদ বা জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তারা কেবল আত্মরক্ষামূলক মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এর বাইরে তাদের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়োজিতকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতান ওরফে মুসান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এবি সিদ্দিকী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৬, ৭, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে দুই দফায় শাহ আমানত সাবির ও মো. হোসাইন তানিমকে মোট ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গ্রেপ্তার তাহসীন ইসলামকে এবার প্রথম দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিরা প্রথম দফার রিমান্ড শেষে কারাগারে ছিলেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদিতে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘সাবির ভাইয়ের জামাত’ নামে একটি সংগঠনের অস্তিত্বের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে সদস্য সংগ্রহ এবং উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। সদস্যরা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহার করে ছদ্মনামে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন বলেও পুলিশের দাবি।
রিমান্ড আবেদিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তাহসীন ইসলামের কাছে সংগঠনের সদস্য, যোগাযোগব্যবস্থা এবং কার্যক্রমসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত তাহসীন ইসলামসহ সাতজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবির-তানিম
সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর
ইরা হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ, নতুন তারিখ ঘোষণা