নির্বাচনি প্রচারে পিভিসি ব্যানার নিষিদ্ধ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের জারি করা আচরণবিধি অনুযায়ী, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপকরণে তৈরি ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত আয়তন, রঙ ও উপকরণ মেনে কেবল পরিবেশবান্ধব প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
 
ইসির জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ থেকে এমন তথ্য জানা গেছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, নির্বাচনের প্রচারে কিছু নির্দেশনা মেনপ লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

নির্দেশনাগুলো হলো-

(ক) কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।

(খ) অপচনশীল দ্রব্য (যেমন- রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদানে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার) ব্যবহার করা যাবে না।

(গ) কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলোতে এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিটেক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাইতে পারবে না। তবে অন্য কোনো স্থানে লিফলেট ও ব্যানার বা হ্যান্ডবিল টাঙ্গাইতে পারবে।

(ঘ) কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের ওপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড লাগানো যাইবে না, এবং উক্ত লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড এর কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না।

(ঙ) ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হইবে এবং ব্যানার আয়তনে অনধিক ১০ (দশ) ফুট × ৪ (চার) ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল আয়তনে অনধিক A4 সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি x ১১.৬৯ ইঞ্চি) এবং ফেস্টুন আয়তনে অনধিক ১৮ ইঞ্চি x ২৪ ইঞ্চি হইবে, এবং ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাইতে পারবে না।

চ) দফা (৬) তে যাহাই থাকুক না কেন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত হইলে, সেইক্ষেত্রে তিনি কেবল তাহার বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে ছাপাইতে পারিবেন, এবং উল্লিখিত ছবি Portrait আকারে হইতে হইবে, এবং উহা কোনো অনুষ্ঠান ও জনসভায় নেতৃত্বদান বা প্রার্থনারত অবস্থায় বা ভঙ্গিমায় ছাপানো যাবে না।

(ছ) নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য সাধারণ ছবি (Portrait) এর আয়তন ১৬০ (ষাট) সেন্টিমিটার × ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) সেন্টিমিটার" এর অধিক হইবে না।

(জ) কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ (তিন) মিটারের অধিক হইবে না।

(ঝ) মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখবিহীন কোন ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাইবে না।

(ঞ) ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ, এবং প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাইবে না।

সংসদ নির্বাচনে দলগুলো ১৭৩২ জন প্রার্থী আর স্বতন্ত্র ২৪৯ জন মিলে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী থাকল ১৯৮১ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ ২৮৮ জন, দাঁড়িপাল্লা ২২৪ আর হাতপাখার ২৫৩ প্রার্থী রয়েছে।ইতিমধ্যে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারেও নেমেছেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চলবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

NB
আরও পড়ুন