ভোটের সরঞ্জাম হাতে কেন্দ্রে ছুটছেন কর্মকর্তারা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।  বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক এই ধারাবাহিকতাকে সফল করতে সারাদেশে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা গেছে নির্বাচনি প্রস্তুতির এক কর্মব্যস্ত চিত্র। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সব সরঞ্জাম।

সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন। নির্দিষ্ট বুথ থেকে তারা ব্যালট বাক্স, স্বচ্ছ ব্যালট পেপার (সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ও গণভোটের জন্য গোলাপী), সিল, স্ট্যাম্প, ভোটার তালিকা এবং অমোচনীয় কালিসহ যাবতীয় উপকরণ বুঝে নিচ্ছেন। দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতিটি সরঞ্জাম তালিকা মিলিয়ে সতর্কতার সাথে গ্রহণ করছেন তারা।

নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দিতে প্রতিটি দলের সাথে থাকছেন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য। শুধু তাই নয়, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ সারাদেশে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে আনসার ও পুলিশ সদস্যরা সরাসরি দায়িত্ব পালন করলেও বাইরে টহলে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাব। এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ভোটারদের মনে আস্থার সঞ্চার করছে।

একটি কেন্দ্রের সার্বিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরঞ্জাম গ্রহণকালে অনেক কর্মকর্তার চোখেমুখে ছিল গুরুদায়িত্ব পালনের দৃঢ়তা। পোলিং অফিসাররাও ভোটার তালিকা যাচাই ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। 

রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, “এটি শুধু একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, দেশের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিবিড় সমন্বয়েই এবারের ভোটের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এই চিত্র মূলত সারা বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। সরঞ্জাম বিতরণ শেষে কর্মকর্তারা পুলিশি পাহারায় নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

এখন অপেক্ষা কেবল কাল সকালের। ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বেছে নেবেন আগামী দিনের নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

DR/SN
আরও পড়ুন