দেশের কোথায় কখন ঈদের জামাত

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।  শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। 

আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে এ জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গা মিলিয়ে এবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন।

সেখানে এবারও অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ভিআইপি ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ মিলিয়ে প্রায় ৩৩০ জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী ভিআইপি। সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য আলাদা নামাজের জায়গা ও পর্দা নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরাতে বাসস জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের এলাকাভিত্তিক মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ আদায় হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে এবারও ঈদের জামাতের আয়োজন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ঈদের দিন সকাল ৮টায় এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একসঙ্গে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে এ বছর ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে এসব ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সুদৃঢ় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঢাকা মহানগর পুলিশের নেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রাজধানী ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম নগরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে ঈদের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল আটটায়। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল পৌনে নয়টায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে আটটায় জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে আরেকটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া ঈদের বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে। সকাল ৯টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সবুজ ঘাসে মোড়ানো দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের আয়তন প্রায় ২২ একর।

ঈদুল ফিতরের বড় জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানও। এবার সেখানে ১৯৯তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মুসল্লিদের জন্য এ বছর পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদের দিন সকাল ১০টায় ঐতিহ্য ও রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে পরপর তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছোড়া হবে। এরপর ময়দানে শুরু হবে ঈদুল ফিতরের জামাত।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ লাইনে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে।

বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে সকাল ৮টায়। প্রথমবারে মত এখানে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় হাজারের বেশি মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়বে মানুষ। সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ ও উজিরপুরের গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে হবে ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টায়।

নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদে সকাল ৮টায় এবং সকাল ১০টায় দুটি ঈদ জামাত হবে। এবায়েদুল্লাহ মসজিদে প্রথম জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়, বেলা ১১টায় হবে দ্বিতীয় জামাত।

বরিশাল বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় দুটি জামাত হবে। পোর্ট রোডের কেরামতিয়া জামে মসজিদে সকাল ৭টা ও সকাল ৯টায় দুটি জামাত হবে।

পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে সাড়ে ৭টায় ও সকাল সাড়ে ৮টায় এবং নুরিয়া স্কুল ঈদ গা ময়দানে ৭টায় ও ৮টায় দুটো করে জামাত হবে। আঞ্জুমানে হেমায়েত ইসলাম (গোরস্থান) ঈদগা ময়দানে ঈদ জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।

খুলনায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে সকাল ৮টায় সার্কিট হাউস ময়দানে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রথম জামাত, ৯টায় দ্বিতীয় এবং ১০টায় তৃতীয় জামাত হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে জামাত হবে। খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত হবে।

ময়মনসিংহে সকাল ৮টায় আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে। একই মাঠে দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। জামাত দুটিতে ইমামতি করবেন হাফেজ মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান।

এছাড়া নগরীর বড় মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, মাদানী নূর জামে মসজিদ মাঠে সকাল ৭টায়, বলাশপুর ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে সকাল ৯টায়, চরশশা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮ টায় ঈদের জামাত হবে।

এদিকে, রাজধানী ঢাকায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. সরওয়ার। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মো. সরওয়ার বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল সাতটায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

AHA
আরও পড়ুন