মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে সহায়তার নামে জাল পাসপোর্ট সরবরাহের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। কুয়ালালামপুরের দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট, নথি ও জালিয়াতির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবানের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১৩ আগস্ট তামান ওয়াহ্যু ও কাম্পুং বাতুর দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স ২৯ ও ৩২ বছর।

গত ৫ আগস্ট পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিকৃতির অভিযোগে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন করে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি প্রায় এক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজনকে চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রায় নয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নির্মাণ খাতে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাসে ছিলেন।

অপর সন্দেহভাজনের ভিসার মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত এমন বিদেশি শ্রমিকদের লক্ষ্য করত, যারা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচিত হতেন। তাদের পাসপোর্টের ছবি পরিবর্তন করে পরিচয় অপরিবর্তিত রেখে জাল নথি তৈরি করা হতো।

এরপর সুস্থ ব্যক্তিদের ওই পরিচয় ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিতে পাঠানো হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে নথিতে ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থানের সিলও ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি লেনদেনে ২০০ থেকে ৩০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নেওয়া হতো বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে— দুটি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নয়টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, প্রায় ৭০০টি পাসপোর্ট পৃষ্ঠা, বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০টি ভুয়া পাসপোর্টের কভার।

এ ছাড়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সন্দেহজনক জাল অভিবাসন সিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রস্থানের সিলও উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারীর একটি ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়েছে।

জব্দ করা সরঞ্জাম ও নথির পরিমাণ বিশ্লেষণ করে কর্তৃপক্ষের ধারণা, চক্রটির কাছে প্রায় ২ হাজার জাল পাসপোর্ট তৈরির সক্ষমতা ছিল।

চক্রটি প্রকাশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন দিত না। ফ্রিল্যান্স এজেন্ট এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তারা গ্রাহক সংগ্রহ করত বলে তদন্তে জানা গেছে।

এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ক্লাং ভ্যালির বাইরে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। জাল নথি তৈরিতে কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে ৫৫ডি ও ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং অপর সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় তদন্ত চলছে।

AHA
আরও পড়ুন