মেগা প্রকল্প নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: জোনায়েদ সাকি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এমপি বলেছেন, হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় করা সরকারের লক্ষ্য। করের পরিধি বাড়ানোর অংশ হিসেবে খুদে দোকানিদের ন্যূনতম করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, করের আওতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কাউকে হয়রানির শিকার হতে হবে না।

শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) মিলনায়তনে ‘বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান ও বাস্তবায়ন দক্ষতা’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেগা প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস তৈরি কিংবা মেগা লুটপাটে বর্তমান সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। ফ্যাসিস্ট আমলে গৃহীত যেসব মেগা প্রকল্প এখন বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের অপচয় ও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, সেগুলোকে রেশনালাইজড করার জন্য বাছাই করা হচ্ছে। সরকার এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছে এবং মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক হলেও এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী সরকারের ভুল নীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের অভাবে অতীতে বাজেটের প্রত্যাশিত সুফল জনগণ পায়নি। বাজেটের সুফল নিশ্চিত করতে অর্থের যোগানের পাশাপাশি বাস্তবায়ন দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী সরকারের আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। অধিকাংশ প্রকল্প অতিমূল্যায়িত ছিল এবং মেগা প্রকল্পের আড়ালে বড় ধরনের দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। এমনকি ছোট প্রকল্পগুলোতেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার বলছে তারল্য সংকট মোকাবিলায় টাকা ছাপানোর প্রয়োজন হবে না, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংককে ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ভবিষ্যতে একইভাবে তারল্য সংকট মোকাবিলা করা হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী সরকারের আমলে গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে কারখানা স্থাপন করলেও প্রায় ৫৫০টি ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও গ্যাস সংযোগ পায়নি। এতে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অলস পড়ে রয়েছে এবং উদ্যোক্তাদের নিয়মিত সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেটে চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি ও লবণসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎস কর কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অন্যদিকে মুদি দোকান, কনফেকশনারিসহ তৃণমূল পর্যায়ের ১৬টি ব্যবসায়িক খাতে ভ্যাট আরোপ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তার মতে, অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ট্রেড লাইসেন্স, নিয়মিত হিসাবপত্র, স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা পর্যাপ্ত ডিজিটাল লেনদেন না থাকায় এ পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ থেকে সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি এ করের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ‘জাতীয় বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান অপেক্ষা বাস্তবায়ন দক্ষতা বেশি জরুরি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী এবং সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

Attr/AHA
আরও পড়ুন