ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, প্রাণীর প্রতিও সহিংসতা রোধে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও লোগোও উন্মোচন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপশক্তি রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও সম্প্রীতি ও সহাবস্থানই বাংলাদেশের মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য। সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নতুন প্রজন্মের জন্য যেমন জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তেমনি মূল্যবোধের সংকটও তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা ছড়া ও কবিতা নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
তিনি বলেন, নজরুলকে নিয়ে আলোচনা শুধু মন্ত্রণালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাঁর সাহিত্য, জীবনদর্শন ও মানবিক চেতনাকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস হিসেবে কাজ করেছে। অতীতের মতো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও জাতীয় কবি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সে কারণেই তাঁর জীবন ও কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, উদ্বোধনী আয়োজনটি আরও ভিন্নধর্মীভাবে করা গেলে ভালো হতো। তার মতে, জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সচিবালয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, কবি নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক
শিক্ষকরা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ''পার্টিসিপেট'' না করে