১৪ হাজার ৩৮৪ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের অপেক্ষার অবসান

আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষনা প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

রাজধানীর শাহবাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চলমান অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত ও আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা এ ঘোষনা দেয়।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। কর্মসূচির শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত, অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং প্রয়াত সহকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আন্দোলন ঘিরে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ও জলকামান মোতায়েন করা হয়। এতে শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কের একাংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী ফল প্রকাশের প্রায় ১৭৫ দিন পরও যোগদান করতে পারেননি। নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

আন্দোলনের মধ্যেই রোববার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে জানানো হয়, আগে নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর নির্বাচিত সহকারী শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। পরদিন ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে এবং পরে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উল্লেখ করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

এর আগে শনিবার মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। তখন তিনি ২৯ অক্টোবর যোগদানের কথা বললেও একদিন পর নতুন সিদ্ধান্তে সেই তারিখ এক মাসের বেশি এগিয়ে আনা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হলেও এতদিন তারা যোগদান করতে পারেননি।

MCH
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত