সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অটোরিকশা চার্জ করলে মিলবে না নিবন্ধন

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার আওতায় রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। সেখানেই কিছু শর্ত দেওয়া হবে যে, তারা যে চার্জ দেবে, সেটি অবশ্যই সৌরবিদ্যুতে হতে হবে। সৌরবিদ্যুতের বাহিরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেবো না এবং নবায়ন করবো না।

সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দিলে জরিমানার বিধানও থাকবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দিতে গেলে তাদের যে জরিমানা হবে, সেটাও আইনে থাকবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে এসব ই-রিকশার নিবন্ধন বিআরটিএ দেবে না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নিবন্ধন দেবে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আইন পাস হয়েছে এবং সেই আইনের আলোকে বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি এবং অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, নিবন্ধন ও নবায়নের জন্য বুয়েট অথবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। ফিটনেস সার্টিফিকেটের পর ট্রাফিক পুলিশের প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে সেটি সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দিতে হবে।

ঢাকা শহরের অটোরিকশাগুলোকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে চারটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশায় আলাদা রং থাকবে। এক জোনের ই-রিকশা যেন অন্য জোনে যেতে না পারে, সেজন্য জিও ফেন্সিং প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে। কোন সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে এবং কোন সড়কে চলতে পারবে না, সেটিও বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। জিও ফেন্সিং ও আইন অমান্যের ক্ষেত্রে জরিমানার বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

কবে নাগাদ এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা ভেটিং করে নিয়ে বিধিমালাতে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা কার্যকরিতা শুরু হবে ইনশাল্লাহ। এ কার্যক্রম শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশে একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে। ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং দেশের সব উপজেলায় ই রিকশাকে নিবন্ধন, আইন ও নবায়নের আওতায় আনা হবে।

তদারকি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজ তো এটি। পুলিশের সঙ্গেই যৌথভাবে এটা করছি আমরা। পুলিশই কমিটিতে আছে। জিও ফেন্সিংও ট্রাফিক পুলিশই করবে এবং তারাই মনিটরিং করবে।

নিবন্ধনের সময় ই-রিকশায় কিউআর কোড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিধিমালা প্রণয়নের প্রাথমিক বৈঠক এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। এতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ট্রাফিক পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

YA
আরও পড়ুন