মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রকাশ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

দেশের মডেল মসজিদগুলোকে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, জনসচেতনতা ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার লক্ষ্যে ‘মডেল মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি।

প্রজ্ঞাপনে মডেল মসজিদের ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও সম্মানি, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম, আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং মসজিদের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মডেল মসজিদে কর্মরত পেশ ইমামকে মাসে ২০ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা এবং খাদিমকে ১২ হাজার টাকা সম্মানি দেওয়া যেতে পারে। খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর সম্মানি চুক্তিভিত্তিক নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

যেসব মডেল মসজিদের আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, সেসব মসজিদ কমিটি ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদে নির্ধারিত গ্রেডে বেতন-ভাতা দিতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে ইমামের বেতন গ্রেড-১০, মুয়াজ্জিনের গ্রেড-১৬ এবং খাদিমের গ্রেড-১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিব ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ চুক্তিভিত্তিক থাকবে। মডেল মসজিদে কর্মরত খতিবসহ জনবলকে মসজিদের আমানতদার হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাদের বিশ্বস্ততা, সততা, পরহেজগারি ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন না। অনুমোদিত ছুটি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করারও নির্দেশনা রয়েছে।

নীতিমালায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে উৎসব ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৭-এ বর্ণিত জনবলকে সংশ্লিষ্ট ঈদের আগের মাসের সম্মানির সমপরিমাণ উৎসব ভাতা দেওয়া যেতে পারে।

নতুন নীতিমালায় মডেল মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি রাখার বিধান করা হয়েছে। মসজিদে পবিত্র কুরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, হিফজখানা এবং শিশুদের মক্তব শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বের মধ্যে জুমার নামাজ, প্রাক-খুতবা ও খুতবা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ এবং জানাজার নামাজের আয়োজন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রমজান মাসে তারাবিহ নামাজের জন্য হাফেজ নিয়োগ ও তাঁদের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া শিরক, বিদআত, অপসংস্কৃতি, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, পরিবেশদূষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, গুজব ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাক-খুতবা ও খুতবার আয়োজন করতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের পবিত্রতা, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং বাজেট প্রস্তুত করতে হবে।

মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, নগদ অর্থ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বও ব্যবস্থাপনা কমিটির ওপর থাকবে।

সভার কার্যবিবরণী ও হাজিরা সংরক্ষণ, বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা এবং মসজিদের আয়বর্ধক কার্যক্রম গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। মসজিদের যাবতীয় আয় অনধিক সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও নীতিমালায় রয়েছে।

পাশাপাশি সরকার ঘোষিত বিশেষ দিবসগুলোতে দোয়া, মোনাজাত ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্বও মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত