দুর্গম চরের শিক্ষকদের জন্য আসছে বিশেষ ভাতা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

চর ও দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালন করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোন বিদ্যালয় কতটা দুর্গম, যাতায়াতে কত সময় ও খরচ হয়, এসব বিষয় বিবেচনা করে ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোকে এ সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রকৃত দুর্গম এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হবে। মাঠপর্যায়ের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভৌগোলিকম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতেই বাস্তবতার ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান নয়

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার প্রচলিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষক উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা স্পষ্ট করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রশাসনিক সংস্কারের সুফল সরাসরি বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
আগামী বছর থেকে ‘সায়েন্স টয়’

প্রাথমিক শিক্ষায় হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখাতে আগামী বছর থেকে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান ববি হাজ্জাজ।

তার ভাষ্য, খেলাধুলা ও পরীক্ষার মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিশুদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কারিকুলামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, অনুসন্ধান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়িয়ে একটি আনন্দময় ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।

AHA
আরও পড়ুন