ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান বলেছেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৫২৬ জনবল নিয়োগের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে৷
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, নিরাপত্তা পর্যটনের অক্সিজেন। কোনো পর্যটন গন্তব্য নিরাপদ না হলে সেখানে টেকসইভাবে পর্যটন বিকাশ সম্ভব নয়। পর্যটকরা কোনো গন্তব্য বেছে নেওয়ার সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের পাশাপাশি নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেন। তাই পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তার সঙ্গে পর্যটকের আস্থা, দেশের ভাবমূর্তি ও অর্থনীতিরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের পর্যটন খাতের সঙ্গে ২৭টি মন্ত্রণালয় এবং ৫৫টির বেশি বিভাগ ও সংস্থা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। একজন পর্যটক কোনো পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে নিরাপত্তা, তথ্য বা জরুরি সহায়তা চাইলে আলাদা আলাদা দপ্তরের প্রতিনিধির কাছে যান না। সেখানে ট্যুরিস্ট পুলিশই তার কাছে দৃশ্যমান সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ফলে ট্যুরিস্ট পুলিশের আচরণ ও সেবার মানও পর্যটকের কাছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে।
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে না, তাদের পর্যটনবান্ধব সেবাও নিশ্চিত করতে হয়। এ কারণে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, হসপিটালিটি, বিদেশি ভাষা, আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ, পর্যটকের আচরণ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জানান, ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা ট্যুরিস্ট পুলিশ বর্তমানে ৩২টি জেলা ও ১৩০টি পর্যটনকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এসব এলাকায় ১০ হাজারের বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছেন। এ সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৩৬৫ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিপদে পড়া ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রে অপরাধ ও হয়রানির ঘটনায় ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের হারানো মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও অর্থ উদ্ধার করে তাদের কাছে ফেরত দেওয়ার কথাও জানান তিনি। আজিজুর রহমান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের নিজস্ব হটলাইনও ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। তবে দায়িত্বের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও বাড়ানো দরকার।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন: শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদায়নের তারিখ পরিবর্তন
গাজীপুরে গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড, ৬৯ জনকে উদ্ধার