জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সারদা পুলিশ একাডেমির আদলে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও স্থানান্তর করা হবে। এ জন্য জমি দেখা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে এ কাজ হচ্ছে। সভায় ওই কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন মৌজায় সরকারি জমি রয়েছে। এসব জমি পাহাড় শ্রেণির হোক বা খাসজমি সবকিছু সুশাসনের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ বসতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওই এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও পরিচালনার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, সবকিছু একটা সুশাসনের মধ্যে নিয়ে এসে ওই জায়গাটি যে একটা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল, সেখান থেকে ওই জায়গাটিকে মুক্ত করা হবে এবং একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে।

জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে এবং ওই এলাকায় সুশাসন নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা এলাকায় নতুন দুটি সেনাক্যাম্প
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণসহ অপরাধ বন্ধে কক্সবাজারের নোয়াখালীপাড়া ও রঙ্গিখালিতে ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্প দুটি ১০ ডিভিশনের অধীনে পরিচালিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি এলাকায় প্রতিনিয়ত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। সবার পরামর্শ অনুযায়ী, ওই দুই জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করা হলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হতে পারে। এ কারণেই দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন