মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, কবে শুরু হবে যাত্রা?

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এ প্রক্রিয়ায় মোট ৩৩৮টি অনুমোদিত রিক্রুটিং ও প্রসেসিং সংস্থা যুক্ত থাকবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও সব কর্মীর মালয়েশিয়া যাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ, চূড়ান্ত নিয়োগসূচি ও সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

১৫ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। 

প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার কর্মী যাওয়ার সুযোগ

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার কর্মীকে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। এ কর্মীদের জন্য নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ব্যয় শূন্য রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে ২৮ আগস্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রথম দফার কর্মীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রথম দফার কর্মীদের চূড়ান্ত তালিকা, যাত্রার তারিখ এবং সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে হালনাগাদ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। 

নিয়োগে থাকবে ৩৩৮টি সংস্থা

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে তিন ধরনের সংস্থা

১। ১টি রাষ্ট্রীয় সংস্থা: বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।
২। ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি।
৩। ৩১২টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি।

অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং কর্মী বাছাইয়ের কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে, প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সিগুলো সংশ্লিষ্ট মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভিসা ও ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে হবে। 

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার প্রক্রিয়া কী অবস্থায়?

১৫ অক্টোবরের সরকারি বিজ্ঞপ্তির বরাতে বাসস জানিয়েছে, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া তখনো চলছিল।

তাই কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা, বিএমইটি ছাড়পত্র ও যাত্রার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। কেবল শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা শুনে কোনো অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বা অর্থ জমা দেওয়া উচিত নয়। 

প্রতারণা এড়াতে যা জানা জরুরি

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর আগের প্রক্রিয়াগুলোতে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দালালের দৌরাত্ম্য, ভুয়া চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং কর্মীদের শোষণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব কারণে নতুন নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় , অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা দুটি সংগঠন, মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক ও ফোর্টিফাই রাইটস, নতুন করে বড় পরিসরে কর্মী নিয়োগের আগে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত নিয়োগ ফি, বেতন না পাওয়া, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশ। 

মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহীদের জন্য কয়েকটি সতর্কতা

১. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করুন।
২. নিয়োগকারী সংস্থা অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করুন।
৩. নিয়োগদাতার নাম, কাজের ধরন, বেতন, কর্মস্থল ও চুক্তির শর্ত লিখিতভাবে জেনে নিন।
৪. ‘নিশ্চিত ভিসা’ বা দ্রুত পাঠানোর প্রতিশ্রুতিতে দালালকে টাকা দেবেন না।
৫. প্রাথমিক ১০ হাজার কর্মীর জন্য ঘোষিত শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের সুযোগটি বুঝে নিন। এই সুবিধার আওতায় কী কী খরচ পড়বে, তা সরকারি নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত করুন।

তাহলে কবে থেকে যেতে পারবেন?

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার ঘোষণা এসেছে এবং নিয়োগে যুক্ত সংস্থাগুলোর কাঠামোও জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য এখনই মালয়েশিয়া যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। চাকরির চাহিদাপত্র, কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা ও বিএমইটির ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই যাত্রার সুযোগ তৈরি হবে।

সুতরাং, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবে আগ্রহীদের চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও বৈধ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে এগোতে হবে।

এএস
আরও পড়ুন