ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের প্রভাব বাংলাদেশে কতটা পড়বে?

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, উন্নয়ন সহযোগী এবং নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অংশীদার। তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার: নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পদ হারাননি; তাঁর দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ফলে তাঁর মেয়াদ, নির্বাহী ক্ষমতা ও পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার অধিকার বহাল থাকছে। পরিবর্তনটি মূলত আইন প্রণয়ন, বাজেট, তদন্ত ও প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারির ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব তাই একদিকে তাৎক্ষণিক ও সরাসরি নয়, অন্যদিকে একেবারে উপেক্ষা করার মতোও নয়। বাণিজ্য ও শুল্কনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শ্রম অধিকার, অভিবাসন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন কৌশল—এসব ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।

১. সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ও সম্ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও তৈরি পোশাক

বাংলাদেশের ওপর নির্বাচনী ফলের সবচেয়ে বাস্তব প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্যনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানি হয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলারের। একই বছরে দুই দেশের পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১৩৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য শুধু কূটনৈতিক অংশীদার নয়, বড় বাণিজ্যিক বাজারও। 

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। দ্য ডেইলি স্টার-এর ১ নভেম্বরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। গত দেড় বছরে শুল্কহার একাধিকবার পরিবর্তিত হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (Agreement on Reciprocal Trade—ART) স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্যে ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে; নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্কের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য দুই দেশের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লিখিতভাবে জানানোর শর্ত রয়েছে। 

এখানে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণের অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক রাতারাতি কমে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা তদন্ত, শুনানি, বাজেট ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে চাপ তৈরি করতে পারবেন; কিন্তু প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ: শুল্ক কমার আশায় বসে থাকার চেয়ে চুক্তির বাস্তবায়ন, পণ্যের তালিকা, শূন্য শুল্কের আওতা এবং তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর মতো মার্কিন কাঁচামাল আমদানির শর্তগুলো খুঁটিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, চুক্তির সুবিধা কতটা পাওয়া যাবে, তা এসব শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।

২. ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে কী লাগাম আসবে?

নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে কিছুটা বেশি নজরদারি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, বাণিজ্য চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শুনানি ও তদন্ত করতে পারবে। এতে প্রশাসনের ওপর জবাবদিহির চাপ বাড়বে।

তবে শুল্কনীতি পুরোপুরি কংগ্রেসের হাতে নয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুল্ক, অভিবাসন প্রয়োগ কিংবা নির্বাহী সংস্থার নীতিতে কংগ্রেসের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সীমিত; তবে বাজেট ও সরকারি ঋণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দর-কষাকষির ক্ষমতা রাখে। 

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর ৫ নভেম্বরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি নিয়ে বেশি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হলেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকায় শুল্কনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। 

৩. ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি ব্যয় ও বাংলাদেশের অর্থনীতি

ট্রাম্পের নির্বাচনী পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ছিল—এ কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

৪. শ্রম অধিকার ও পোশাকশিল্পে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে

বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রম অধিকার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২৬ সালের বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, যৌথ দর-কষাকষি, শ্রম আইন সংশোধন, ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এখানে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণের একটি তাৎপর্য রয়েছে। দলটির আইনপ্রণেতারা শ্রম অধিকার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারবেন। বাংলাদেশের শ্রম আইন ও কারখানার পরিবেশ নিয়ে শুনানি, প্রতিবেদন কিংবা নীতিগত চাপ তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে।

তবে শ্রম অধিকার নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে শুরু হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৪ সালের বিনিয়োগ পরিবেশবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পোশাকশিল্পে নিরাপত্তা উন্নত হলেও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন। 

অর্থাৎ কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাংলাদেশের জন্য শ্রম অধিকার বিষয়ে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এই চাপকে শুধু রাজনৈতিক বিরোধের ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; চুক্তির শর্ত এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তব অগ্রগতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘু ইস্যুতে নজরদারি বাড়তে পারে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা—এসব বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের ২০২৬ সালের জুনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা, গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের হাতে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিভিন্ন নীতিগত হাতিয়ার রয়েছে—যেমন প্রতিবেদন চাওয়া, সহায়তা কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র বিক্রিতে বিধিনিষেধ।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পেলে এসব বিষয়ে শুনানি ও প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আসবেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তরের বড় ভূমিকা রয়েছে। কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান, প্রশাসনের অগ্রাধিকার এবং বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি—সব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত আসবে।

৬. রেমিট্যান্সে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব: সরাসরি প্রভাবের আরেকটি ক্ষেত্র

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব শুধু রপ্তানি আয় বা বৈদেশিক বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নয়; রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও দেশটি শীর্ষ উৎস।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেছে মোট রেমিট্যান্সের ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ছিল বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় একক উৎস।

তবে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের কারণে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হবে—এমন কোনো তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি, ভিসা প্রক্রিয়া, কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি এবং ডলারের বিনিময়মূল্য রেমিট্যান্সে বেশি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ অভিবাসন আইন ও নীতির ওপর রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়াতে পারে। কিন্তু ভিসা বা অভিবাসননীতি রাতারাতি বদলে যাবে, এমন ধারণারও ভিত্তি নেই। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য জামানত-সংক্রান্ত মার্কিন পাইলট কর্মসূচির কথাও উল্লেখ রয়েছে। 

৭. মার্কিন সহায়তা ও উন্নয়ন সহযোগিতায় কী হবে?

বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুশাসন, মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা রয়েছে। মার্কিন সরকারের ForeignAssistance.gov-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া মার্কিন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। এর ৯৯ শতাংশ ছিল অর্থনৈতিক সহায়তা এবং ১ শতাংশ সামরিক খাতে। 

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ফলে সহায়তার বাজেট, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা মানবিক সহায়তা, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয়ে ভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরতে পারেন।

তবে এই নির্বাচনী ফলের কারণে বাংলাদেশে মার্কিন সহায়তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে বা কমবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে নতুন কংগ্রেসের বাজেট, প্রশাসনের প্রস্তাব এবং দুই দেশের অগ্রাধিকারের ওপর।

৮. চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা রয়েছে। 

ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের চীননীতি বা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল মৌলিকভাবে বদলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটি বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা, চীনের প্রভাব, বন্দর ও অবকাঠামো, সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে কোনো এক পক্ষের সঙ্গে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতায় না নিয়ে গিয়ে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ভারসাম্য বজায় রাখা।

৯. ট্রাম্পের ক্ষমতা কমলেও বাংলাদেশের জন্য অনিশ্চয়তা শেষ হচ্ছে না

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের হাতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে। তিনি পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা, নির্বাহী আদেশ জারি এবং বিদ্যমান আইনি ক্ষমতার আওতায় শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (CFR) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা বাজেট, কংগ্রেসের কমিটি এবং সিনেটে মনোনয়ন অনুমোদনের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও শুল্কসংক্রান্ত ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বহাল থাকবে। 

কার্নেগি এনডাওমেন্টের ৪ নভেম্বরের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, কংগ্রেস তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারলেও প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে আটকে দিতে বড় ধরনের আইনগত বা আর্থিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। আর প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। 

এ কারণে ট্রাম্পের নির্বাচনী পরাজয়কে বাংলাদেশের জন্য মার্কিন নীতির তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলেছে—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত