তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। রোববার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কারযালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তারা দেশের অর্থনৈতিক বর্তমান অবস্থান, বেকারত্ব সঙ্কটসহ বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা এই বৈঠক হয়।
বৈঠকের পর এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, আমরা আজকে আলোচনা করেছি ব্যবসা ক্ষেত্রে চলমান যে সমস্যা রয়েছে আমাদের… আমরা ইন্ডাস্ট্রিকে চালিয়ে রাখা, কর্মসংস্থানকে ঠিক রাখা এবং বর্ধিত করা সেটাই নিয়ে আমরা আমাদের কথাগুলো বলেছি। আমরা চেয়েছি যে, যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে যেকোনো সরকার যেই আসুক ব্যবসায়ীদের কনফিডেন্স আনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘কারণ আমাদের সাকসেসই কিন্তু সরকারের সাকসেস। আমরা আমাদের আলোচনাগুলো করেছি। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো বলেছি। উনার ওয়েল নোট করেছেন। ওনারা আসলে হয়ত সব জায়গায় উনারা পারবেন না বা কিছু জায়গায় পারবেন। বাট আন্তরিকভাবে তারা করতে চান।’
বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘ইকোনমি যদি ঠিক করতে হয় তাহলে কিন্তু ব্যবসায়ীদেরকে সাথে নিয়ে করা উচিত এবং সেটাই কিন্তু আমরা ওনাকে (তারেক রহমান) বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট হলো যে, এমপ্লয়মেন্ট ক্রিয়েট করা। এখন কিন্তু আস্তে আস্তে অনেক বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিগুলো বসে যাচ্ছে। আমরা বলেছি যে এগুলো আসলে কিভাবে রিভাইভ করা যায় সেটা নিয়ে আমরা ওনার সাথে বিস্তারিত একটা আলোপ-আলোচনা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা হলো- যে সরকারি আসুক না কেন তারা যাতে সেই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে। আর ইকোনমি ইজ নাম্বার ওয়ান। যদি সেটাকে দাঁড় করাতে হয় তাহলে ব্যবসায়ীকে সাথে নিয়েই উনাদের একসাথে কাজ করা উচিত। যেটা উনি (তারেক রহমান) পরে বললেন, যে হ্যাঁ উনিও মনে করেন, যে উনারা যদি আসতে পারেন তাহলে ব্যবসায়ীদেরকে সাথে নিয়ে পলিসিগুলো যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার এবং কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে না। বাট একটা ট্রান্সপারেন্সি আনার চেষ্টা করবেন এবং ব্যবসায় সহায়ক একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।’
প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন , ‘তারা যেসব জিনিসগুলো বলেছেন সেগুলো পজিটিভ। আমি মনে করি যে ব্যবসায়ীদের জন্য এটা সহায়ক। প্রথম যে জিনিস ব্যবসায়ীদের জন্যই “দে ওয়ান্টেড টু প্রিপেয়ারড তাদের পলিসি গুলো” এবং সেটা যাতে ব্যবসা কস্ট অফ উইং বিজনেস কমানো যায়, স্টক মার্কেট যাতে সৃষ্টি করা যায় , আরো ভাইব্রেন্ট করানো যায়, ব্যাংকেও উপর যাতে নির্ভরশীলতা কমে আসে … এগুলো তো আমি মনে প্রত্যেকটা রাইট স্টেপ। আমরা মনে করি যে, ইট ইজ এ রাইট ডাইরেকশন, ওনারাও চিন্তা করছেন।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে সবার উপরে যে জিনিসটা ইমিডিয়েটলি- বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা উন্নতি করা উচিত। মব কালচার থেকে আমাদের বের হওয়া উচিত এবং জিনিসটা আমরা ওনাদেরকে বারবার বলেছি এবং এটা না হলে ব্যবসা কেন আমরা নরমাল মানুষই তো আর নড়তে চড়তে পারি না।’
এক প্রশ্নের জবাবে মীর নাসির হোসেন বলেন, ‘বডি ল্যাংগুয়েজে আমাদের পজেটিভ মনে হয়েছে। উনি আন্তরিকতার সাথে শুনেছেন এবং উনি আশ্বাস দিয়েছেন যে যদি ক্ষমতায় আসতে পারেন আমাদের নিয়ে কাজ করবেন যাতে দেশের উন্নয়ন হয় অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাই।’
বৈঠকে আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদ, বিজেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিকেএমএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএসএমএর সভাপতি মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএবির সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো: শাহরিয়ার, স্টিল মিল মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বিএপিআইয়ের আব্দুল মুক্তাদির, বিএসআরএমের সভাপতি আলী হুসাইন আকবর আলী, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, উত্তরা মোটরসের মতিউর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, সিকম গ্রুপের আমিরুল হক, পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার টিটু, ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির।
এছাড়া বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, ফজলুল হক, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাহিদ কবির, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আড়াই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগে যে পর্বতসম সমস্যা সেগুলো শুনেছেন তারেক রহমান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের কাছ থেকে। ব্যবসায়ীদের যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে, বিনিয়োগ হচ্ছে না, কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে, ক্যাপিটাল মার্কেটের সমস্যা এগুলো তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ীরা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করেছি, এগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন হবে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে ব্যবয়ায়ায়ীদের কাছে৷ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যত সংস্কার সব বিএনপির আমলে হয়েছে। বিএনপি বিজনেস ফ্রেন্ডলি রাজনৈতিক দল। যে বড় ধরনের সংস্কার দরকার সেগুলো করতে নীতিমালায় প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের নীতিমালায় তার সন্তুষ্ট। বিএনপির ওপর আস্থা আছে ব্যবসায়ীদের বলে আমরা মনে করি।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি
সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি। কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, সদস্য আবদুল হাই শিকদার, কাদের গণি চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কে এম মহসিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মত্যুতে শোক বইতেও স্বাক্ষর করেন।
নাইজেরিয়ায় নৌকা ডুবে নিহত ২৬, নিখোঁজ ১৪