মুছাব্বিরের খুনিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি: স্বেচ্ছাসেবক দল

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুছাব্বিরের জানাজার আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াসীন আলী ও সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এ হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

রবিন বলেন, মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি। এই দাবিতে শনিবার ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর মধ্যে মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্বেচ্ছাসেবক দল কঠোর কর্মসূচি দেবে।’

কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে গুলি করে।

মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে এদিন তেজগাঁও থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী সুরাইয়া।

বদ জোহর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুছাব্বিরের কফিন নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, এসএম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলীসহ নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘আমি বলব, অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক অনতিবিলম্বে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমি সরকারকে বলতে চাই আপনারা বলেছেন, আপনারা নির্বাচন করবেন। আমরা আপনাদের কথায় বিশ্বাস করিছি, আপনার নির্বাচনের তারিখ দিয়েছেন আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি।

‘কিন্তু যখন আমরা দেখি এখন পর্যন্ত ওসমান শরীফ হাদি হত্যার মূল হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হন নাই কিন্তু মুছাব্বিরের যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে যদিও বেশিক্ষণ হয় নাই….এখানে আমাদের সহকর্মীরা বলেছেন ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করব এই সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তা না হলে ধরে নেব আপনাদের আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি আছে অথবা আপনারা পারবেন না। তাই সরকারকে বলব, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘এই পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আজকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, জননেতা জনাব তারেক রহমানের সাহেবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবার যে লড়াই চলছে কোনো হত্যাকাণ্ড সে লড়াইয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, কোন রক্তপাত সেই লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না।

‘বাংলাদেশের মাটিতে আমরা নির্ধারিত সময়েই জনগণের সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমেই আমরা নির্বাচিত করব, কোনো ষড়যন্ত্রই সেই পথে বাধা হতে পারবে না। ইনশল্লাহ আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান এখন আমাদের মাঝেই আছে। আমরা লড়াইকে তার যৌক্তিক পরিণতির দিকে যে কোন ত্যাগের বিনিময়ে যদি আমাদের আরো অনেকবার মুসাফির হতে হয় আমরা মুসাফির হব। কিন্তু আমরা আমাদের লড়াইকে আর যৌক্তিক নিয়ে যাব।’

স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু বলেন, ‘মুছাব্বির একজন দেশপ্রেমিক সাহসী সৈনিক। অনেকবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে গ্রেপ্তার হয়েছে। একবার তাকে গুম করা হয়েছে। আমার মনে আছেন আমাদের নেতা রুহুল কবির রিজভী রাতে সংবাদ সম্মেলন করে মুছাব্বিরকে গুম করার খবর দেশবাসীকে জানায় গণমাধ্যমের মাধ্যমে।

‘পরে গুম থেকে রক্ষা পেয়ে কারাগারে গেলে তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। জাতীয়তাবাদী দলের একজন সাহসী কর্মী ছিলেন তিনি। তার এই হত্যাকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।

মহানগর উত্তরের সদস্য আমিনুল হক বলেন, ‘একটি মহল নির্বাচন বানচাল করার জন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে। মুছাব্বির একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন। শত শত মামলা, নিপীড়ন সহ্য করেছেন কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। আমরা মনে করি, মুছাব্বিরের হত্যাকাণ্ড নির্বাচন বানচালকারীদের চক্রান্তের অংশ। উদ্দেশ্য একটাই দেশকে অস্থিতিশীল করা। আমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন মুছাব্বিরেরে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সরকার ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে বলব, আপনারা মুছাব্বিরের হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করুন নইলে আমরা খুঁজে বের করব। এই হত্যা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।’

আজিজুর রহমান মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন একসময়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে গেছেন।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘মুছাব্বিরের স্ত্রী মামলা করতে এসে আমাদের বলেছেন বেশ কিছুদিন ধরেই তার স্বামী জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন।’

তবে কারা কেন এই হুমকি দিয়েছে সে ব্যাপারটি সুরাইয়া বেগম পুলিশের কাছে স্পষ্ট করেননি বলে জানান উপ-কমিশনার ইবনে মিজান।

NB/FJ
আরও পড়ুন