বিএনপির বিদ্রোহী ৫৯ প্রার্থীকে বহিষ্কার

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাসহ মোট ৬০ জনকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়া বা শৃঙ্খলা বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থাকায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিভাগওয়ারী বহিষ্কৃত নেতাদের তালিকা

রংপুর বিভাগ (৩ জন)
দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি), দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজয়ানুল হক (সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি) এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা (সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, সৈয়দপুর জেলা বিএনপি)।

রাজশাহী বিভাগ (৮ জন)
নওগাঁ-৩ আসনের পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ আসনের তাইফুল ইসলাম টিপু (সহ-দপ্তর সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি) ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ আসনের দাউদার মাহমুদ (যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপি), রাজশাহী-৫ আসনের ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ আসনের কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি) এবং পাবনা-৪ আসনের জাকারিয়া পিন্টু।

ঢাকা বিভাগ (৯ জন)
নারায়ণগঞ্জের মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, মো. আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ও অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম। টাঙ্গাইলের অ্যাড. মোহাম্মাদ আলী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ফরহাদ ইকবাল। নরসিংদীর মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী এবং মুন্সিগঞ্জের মো. মুমিন আলী ও মো. মহিউদ্দিন।

ময়মনসিংহ বিভাগ (৭ জন)
কিশোরগঞ্জের রেজাউল করিম চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। ময়মনসিংহের সালমান ওমর রুবেল, এবি সিদ্দিকুর রহমান ও মো. মোর্শেদ আলম। নেত্রকোনার মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া এবং শেরপুরের মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ।

খুলনা বিভাগ (৬ জন)
কুষ্টিয়ার নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, যশোরের অ্যাড. শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরার ডা. শহীদুল আলম (কেন্দ্রীয় সদস্য), বাগেরহাটের ইঞ্জি. মাসুদ ও খায়রুজ্জামান শিপন।

ফরিদপুর বিভাগ (৭ জন)
মাদারীপুরের লাভলু সিদ্দিকী, কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা ও মিল্টন বৈদ্য। রাজবাড়ীর নাসিরুল হক সাবু (কেন্দ্রীয় সদস্য) এবং গোপালগঞ্জের এম এস খান মঞ্জু, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও অ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব।

সিলেট বিভাগ (৫ জন)
সুনামগঞ্জের আনোয়ার হোসেন ও দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। সিলেটের মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজারের মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জের শেখ সুজাত মিয়া (কেন্দ্রীয় সদস্য)।

কুমিল্লা বিভাগ (৬ জন)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অ্যাড. কামরুজ্জামান মামুন, কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ও কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল। কুমিল্লার ইঞ্জি. আব্দুল মতিন ও আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুরের এম এ হান্নান (কেন্দ্রীয় সদস্য)।

চট্টগ্রাম বিভাগ (৬ জন)
চট্টগ্রামের অ্যাড. মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী ও লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান। নোয়াখালীর কাজী মফিজুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজীম এবং ইঞ্জিনিয়ার তানবীর উদ্দীন রাজীব।

বরিশাল বিভাগ (২ জন)
বরিশাল-১ আসনের আব্দুস সোবহান (কেন্দ্রীয় সদস্য) এবং পিরোজপুর-২ আসনের মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।

নির্বাচন সামনে রেখে দলের এমন শুদ্ধি অভিযান তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

DR/FJ
আরও পড়ুন