দীর্ঘ দুই দশক পর সিরাজগঞ্জের মাটিতে পা রেখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে রাজপথে ও ব্যালটে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, ‘মানুষের কেড়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।’
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঙ্কার দেন।
বিকেল ৩টায় জনসভা মঞ্চে তারেক রহমান তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হলে লাখো নেতা-কর্মীর করতালিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষের মাঝে এক অভূতপূর্ব উল্লাস দেখা যায়। জনসভা থেকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার সকল সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে এবং একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলেই কেবল জনগণের প্রকৃত অধিকার নিশ্চিত হবে।
সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জেলার ঝিমিয়ে পড়া তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। তিনি ঘোষণা করেন, সিরাজগঞ্জের তাঁত পণ্য যেন বিশ্বের দরবারে পৌঁছে যেতে পারে এবং সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ষড়যন্ত্র করে কেউ যেন মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পাহারাদারের মতো সজাগ থাকতে হবে।
সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিচ্ছেদ শেষে আজকের এই ঐতিহাসিক পুনর্মিলনীতে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি রক্ষা আপনারা করবেন: তারেক রহমান
নির্বাচনে সচেতন থাকার আহ্বান তারেক রহমানের
