ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে পুনরায় তেল আমদানির কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে আমদানিকৃত তেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশটি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জেরে ২০২২ সালের শেষদিকে মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছিল সিউল। কিন্তু বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানি করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে, যা বর্তমানে যুদ্ধকবলিত।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার একাধিক জরুরি বৈঠক করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিউল নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করছে:
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল: রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক চলছে।
মূল্যসীমা নির্ধারণ (Price Cap): ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের পর এই প্রথম রিফাইনারি বা তেল শোধনাগারগুলোর জন্য তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণের কথা ভাবছে সরকার।
রেশনিং ব্যবস্থা: ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবহারের ওপর একটি সম্ভাব্য ‘রেশনিং সিস্টেম’ চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এই অবস্থান পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে পশ্চিমা মিত্র হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া এখন রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলারে ওঠার শঙ্কা
