ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব: শফিকুর রহমান

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না, বরং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াত যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে দুর্নীতির ‘ঘাড় ধরে টান’ দেওয়া হবে এবং লুণ্ঠিত টাকা ফেরত আনা হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আরসি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেইনি। কোনো মামলা বা চাঁদাবাজি আমাদের নেতাকর্মীরা করেনি। বরং আমরা সাধারণ মানুষের জানমালের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছি। 

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে জামায়াতের শাসনামলে বিচার হবে সবার জন্য সমান। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—অপরাধ করলে সবাইকেই একই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

মায়ের ইজ্জত ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত যেতে দেব না। আমরা দেশে মা-বোনদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’

তিনি আরও যোগ করেন, গত ৫৪ বছরে যাদের সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত করা হয়েছে, সেখান থেকেই আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হবে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা পরিবারের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে চাই।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যারা নিজেরা লুণ্ঠন করেনি, কেবল তারাই এই টাকা ফেরত আনতে পারবে। যারা লুটপাটে জড়িত, তাদের দ্বারা এই সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

দলের ওপর বিগত সরকারের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। হাজারো নেতাকর্মীকে আটক ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তবুও আমরা জনগণের পাশ থেকে সরিনি। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আমাদের সীমিত সামর্থ্য নিয়েও মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম।’

উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ-না’ গণভোট। এরপরের নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ দিন। যোগ্যতার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন এক গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

DR/AHA
আরও পড়ুন