জামায়াত-বিএনপি ছাড়তে হেফাজতের আল্টিমেটাম

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি ধারার দলগুলো জামায়াত, বিএনপি ও স্বতন্ত্র- এই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় হেফাজতের ভেতরে দৃশ্যমান ফাটল ধরে।  ফলে কওমি ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে তাদের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে জমিতে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় তারা ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য পোষণ করেন।

হেফাজত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট কিংবা বিএনপির রাজনৈতিক বলয়ে থাকা দলগুলোকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। যারা এই জোটে শামিল হতে চাইবে, তাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বিষয়টিকে জামায়াত ও বিএনপির বলয় ছাড়ার এক ধরনের প্রচ্ছন্ন বার্তা বা 'আল্টিমেটাম' হিসেবে দেখছেন।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কওমি ধারার দলগুলো বিভিন্ন বলয়ে চলে যাওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা কওমি ধারার রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ৩ আগস্টের মধ্যে লিখিত মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকে নতুন রাজনৈতিক জোটের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। নতুন জোটের মূল লক্ষ্য হবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ এবং একক প্রার্থী নিশ্চিত করা।

SN
আরও পড়ুন