রুমিন ফারহানার ২২ বচন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ এএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও মণ্ডপে দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। 

 

তাকে দেবী দুর্গার আদলে উপস্থাপন করে তৈরি একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে ২২টি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

 

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রুমিন ফারহানা। 

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে, আমার এলাকায় ১০১টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে এত পূজা হয়, সেখানে মায়ের কৃপা থাকে বেশি।’

 

পূজার আনন্দ নিয়ে তিনি বলেন, গত এক মাস ধরে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর জন্য আলাদা আলাদা শাড়ি জমিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘ঈদে আমাদের দায়িত্ব বেশি থাকে। কিন্তু পূজায় ঘোরাঘুরি আর আনন্দটা অনেক বেশি হয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এটা আমাদের সবারই প্রাণের উৎসব।’ 

 

পরিদর্শনের সময় অনেক মণ্ডপে রুমিন ফারহানাকে হিন্দুদের মতো মূর্তির উদ্দেশ্যে হাত জোর করে প্রণাম করতে দেখা গেছে।

 

উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উৎসবের রং যেন আরো উজ্জ্বল হয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা কষ্টের ছাপ যেন তাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা সবার নাগরিক দায়িত্ব।’

 

এদিকে, রুমিন ফারহানাকে দেবী দুর্গার আদলে আট হাতবিশিষ্ট রূপে দেখিয়ে তৈরি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘ছবিটি কেউ একজন তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিভাজন আর ঘৃণা উসকে দিতে।’

 

এরপর যারা অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনকে ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী মনে করেন, তাদের উদ্দেশে ২২টি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। 

বক্তব্যগুলো হলো—

 

১. বলাৎকারে ধর্ম যায় না।

 

২. ঘুষ খেলে ধর্ম যায় না।

 

৩. শিশু ধর্ষণ বা নির্যাতনে ধর্ম যায় না।

 

৪. মানুষ খুনে ধর্ম যায় না।

 

৫. নারীর ওপর সহিংসতায় ধর্ম যায় না।

 

৬. নারীকে কুৎসিত অপবাদ দিলে ধর্ম যায় না।

 

৭. অন্যের সম্পদ লুট করলে ধর্ম যায় না।

 

৮. প্রতারণা আর মানুষ ঠকালে ধর্ম যায় না।

 

৯. সারাবেলা মিথ্যার চাষে ধর্ম যায় না।

 

১০. নোংরামি করে ধরা পড়ে মুতা বিয়ে বললে ধর্ম যায় না।

 

১১. মুনাফেকিকে জীবনের মূল মন্ত্র বানালে ধর্ম যায় না।

 

১২. ধর্মকে ব্যবসা বানালে ধর্ম যায় না।

 

১৩. বোনের হিস্যা ভাই মারলে ধর্ম যায় না।

 

১৪. বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে ভাগাড়ে ফেললে ধর্ম যায় না।

 

১৫. অন্যের হক মেরে খেলে ধর্ম যায় না।

 

১৬. মিথ্যার বেসাতিতে ধর্ম যায় না।

 

১৭. ধর্মকে ঢাল বানিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হলে ধর্ম যায় না।

 

১৮. ওজন বা মাপে কম দিলে ধর্ম যায় না।

 

১৯. খাদ্যে ভেজাল, এমনকি বিষ মেশালেও ধর্ম যায় না।

 

২০. ব্যভিচারে ধর্ম যায় না।

 

২১. দুর্বলের ওপর অত্যাচারে ধর্ম যায় না।

 

২২. দুষ্টের লালন-পালনে ধর্ম মজবুত হয়; ধর্ম যায় কেবল অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে।

 

পোস্টের শেষে ছবিতে দেবী দুর্গার আট হাত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা লেখেন, ‘মা দুর্গা দশভুজা, আটভুজা না। যাই হোক মূর্খের সমাজ, কী আর করা।’

 

তার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, বক্তব্য ও ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ তার বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি সামনে এনে সমালোচনা করছেন।

এইচএন
আরও পড়ুন