গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপি একটা সমাবেশ দিয়েছিল। সেই সমাবেশ থেকে তারা সরাসরি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। শনিবার (১১ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আজম বলেন, বিএনপি গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা ও এ সরকারের পতন ঘটানোর জন্য এমন কোনো পন্থা নেই যা তারা অবলম্বন করেনি। মানুষ খুন থেকে শুরু করে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পেট্রোল বোমা মেরে, বাসে-ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে, কিন্তু পারেনি। তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এরপর গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল স্বাধীনতা বিরোধী, জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্রের সাথে আন্তর্জাতিক শক্তির ঐক্য হয়েছিল। সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তির সকল ষড়যন্ত্র চক্রান্ত মিথ্যা প্রমাণিত করে, প্রতিহত করে দিয়ে শেখ হাসিনার সেই ভোটে আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করে এবং ৪২ শতাংশ মানুষ ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, সেই ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়না, জনগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে, ভোট কেন্দ্রে আসলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়। এই ভোটের মাধ্যমে শেখ হাসিনা আবারো প্রমাণ করেছেন সেই আন্তর্জাতিক শক্তি যারা চেয়েছিল নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে মানুষ আসবে না এবং ভোটের পরেরদিন বিভিন্ন ধরনের স্যাংশন দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এনে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরো বলেন, গত ১৫ বছর এই অপশক্তির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা লড়াই সংগ্রাম করে একটা দরিদ্র দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এনেছেন। বাংলাদেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে আছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্মার্ট উন্নয়নশীল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
