বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত করার অন্তবর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম দলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত করার ঘোষণা পরদিন বিএনপি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর হাফিজ বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড হৃদয় বিদারক ঘটনা… বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও সুদূর প্রসারি কার্যক্রম রয়েছে এই দেশটা একটা পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যে… যাদের কোনো শক্তিশালী সেনা বাহিনী থাকবে না। এই পুনঃতদন্তে সেই রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
১৯৭১ সালে আমরা ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কয়েকজন অফিসার মিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলাম…. আমাদের সৃষ্ট এই সেনাবাহিনী জনগণের আশা-আকাংখাকে ধারণ করেছিলো প্রত্যেকটি আন্দোলনে-সংগ্রামে জনগণের সাথী হয়ে জনগণের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটিয়েছিলো। কিন্তু সেই সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার জন্যই প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো এই বিডিআর হত্যাকান্ড। আমরা আশা করব, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্মোহভাবে নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনার তদন্ত করবেন এবং বিচারের কাজ দ্রুত শুরু করবেন।”
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটনায় তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তা ও আরও ১৭ জন পরিবারের নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে দণ্ডিত করা হয়েছে, অনেক দোষী ব্যক্তি শাস্তির আওতার বাইরে চলে গিয়েছে। তবু আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তারা বিএনপির অনুরোধে এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমার জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য যে সকল দেশ এবং প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দালাল হিসেবে অপকর্মের লিপ্ত ছিলো তাদের সকলের চেহারা উন্মোচিত হোক জনগণের স্বার্থে। আমরা একটা নতুন যাত্রা শুরু করতে চাই। আমাদের দল থেকে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বজনের সাহায্য-সহযোগিতা করব।”
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, অতিঅল্প সময়ের মধ্যে এই নারকীয় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের আমরা একটা সুষ্ঠু পরিণতি দেখতে চাই… বিচার চাই যাতে করে আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারসমূহ তাদের যাতে অন্তর শান্ত হয়।
আমরা দেখতে চাই, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেভাবে পুনঃতদন্ত ও পুনঃবিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এটি যাতে সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে আমরা বিএনপির তরফ থেকে তাদেরকে সর্বত্র ভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করব এবং পরে যে-সকল ঘটনার বিবরণ বা যে-সব ব্যক্তিবর্গ যারা অত্যন্ত ভাইটাল উইনেস ছিলেন এই ঘটনায় তারা কেউ বিদেশে চলে গেছেন, কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ বলেন, ‘‘ আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে এবং সাধারণ নাগরিকরাও বর্তমান সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড ক্লোজড মনিটরিং করছি। এখন পর্যন্ত যে সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে শেষ মুহূর্তে দ্রুত সরকার থেকে বাইরে নিক্ষেপ করার জন্যে এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করার জন্যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান এবং সেনা বাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর সকল সদস্যদেরকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
পুনঃতদন্তের কোনো সময়মীমা বিএনপি দেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় সময় দিতে চাই এই তদন্ত কমিটিকে। আমরা আশা করি দ্রুত তারা তদন্ত কাজ এবং বিচারের কাজ সম্পন্ন করবে। সময়সীমা বেধে দেয়া অত্যন্ত মুশকিল।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ এবং অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম।

