পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সময় অনুসরণীয় ৮ বিষয়

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪২ এএম

কোরআন কোনো সাধারণ গ্রন্থ নয়। মুসলমানের বিশ্বাস, চিন্তা ও জীবনচর্চার মূল ভিত্তি হলো কোরআন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন এই কোরআনই তার পাঠকের পক্ষে সুপারিশ করবে। তাই কোরআন তিলাওয়াত করার বিষয় নয়; কীভাবে, কোন মনোভাব নিয়ে এবং কোন আদবের সঙ্গে পড়া হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য আটটি গুরুত্বপূর্ণ আদব তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

প্রথম : কোরআন পড়তে হবে পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে, শান্ত মন ও পূর্ণ মনোযোগ নিয়ে।

দ্বিতীয় : তাড়াহুড়া না করে ধীরে, স্পষ্ট উচ্চারণে ও বুঝে বুঝে তিলাওয়াত করা উচিত। তিন দিনের কম সময়ে পুরো কোরআন শেষ করতে নিরুৎসাহিত করেছেন নবী করিম (সা.)। তিনি বলেছেন, এতে কোরআনের গভীরতা উপলব্ধি করা যায় না। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে তিনি সাত দিনে একবার কোরআন খতম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উসমান ইবনে আফফান ও যায়েদ ইবনে সাবিতও সপ্তাহে একবার কোরআন শেষ করতেন।

তৃতীয় : তিলাওয়াতের সময় অন্তরে আল্লাহভীতি, বিনয় ও কোমলতা থাকা জরুরি। আয়াতের অর্থ হৃদয়ে ছুঁয়ে গেলে চোখে পানি আসা স্বাভাবিক। নবী করিম বলেছেন, কোরআন পড়ে কাঁদো; আর কাঁদতে না পারলে অন্তত কান্নার চেষ্টা করো।

চতুর্থ : সুন্দর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কণ্ঠ দিয়ে কোরআনকে সুন্দর করো। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি কোরআন সুন্দর কণ্ঠে পড়ে না, সে আমাদের পথের অনুসারী নয়।

পঞ্চম : যদি লোক দেখানোর মনোভাব তৈরি হয় বা আশপাশের মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে নীরবে তিলাওয়াত করাই উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রকাশ্যে কোরআন পড়াকে প্রকাশ্যে দান করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেমন অধিকাংশ ক্ষেত্রে গোপনে দান করা উত্তম, তেমনি অনেক সময় নীরবে কোরআন পড়াও বেশি ফজিলতের।

ষষ্ঠ :  কোরআন পড়তে হবে অর্থ অনুধাবন করে, গভীর মনোযোগ ও চিন্তাভাবনার সঙ্গে। উদ্দেশ্য শুধু সওয়াব অর্জন নয়, বরং আল্লাহর বাণী বুঝে তা নিজের জীবনে অনুশীলন করা।

সপ্তম : কোরআনের নির্দেশ অমান্য করে শুধু মুখে তিলাওয়াত করা আত্মপ্রবঞ্চনার অন্তর্ভূক্ত। কেউ যদি জুলুম বা মিথ্যার সঙ্গে জড়িত থেকে এমন আয়াত পড়ে, যেখানে জালিম ও মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর অভিশাপের কথা বলা হয়েছে, তবে সে অজান্তেই নিজের বিরুদ্ধেই দোয়া করছে।

এ প্রসঙ্গে তাওরাতের একটি বর্ণনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মানুষ যেমন পথের ধারে দাঁড়িয়ে বন্ধুর চিঠি মনোযোগ দিয়ে পড়ে, অথচ আল্লাহর পাঠানো কিতাবের দিকে ফিরে তাকানোর সময় পায় না, এটি বড়ই দুঃখজনক।

অষ্টম : কোরআন তিলাওয়াতকারীর জীবনাচরণেও কোরআনের প্রভাব স্পষ্ট হতে হবে। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, কোরআনের পাঠককে চেনা যাবে তার রাতের ইবাদতে, দিনের সংযমে, চোখের অশ্রুতে, আল্লাহভীতিতে, নীরবতায়, বিনয়ে ও আত্মসংযমে।

একবার এক ব্যক্তি সাধক ওহাইব ইবনুল ওয়ারদকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি কি ঘুমান না? তিনি জবাব দেন, কোরআনের বিস্ময়কর বাণী আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

HN
আরও পড়ুন