শবে বরাতের ফজিলত ও সুন্নাহ ভিত্তিক ৬ আমল

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত। আরবি ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা অর্ধ-শাবানের এই রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ‘শবে বরাত’ ফারসি শব্দ; যার অর্থ মুক্তির রজনী। হাদিস শরিফে এ রাতে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও ক্ষমা নাজিলের কথা উল্লেখ আছে।

বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)

এই বরকতময় রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করা সুন্নাহসম্মত। নিচে এ রাতের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো।

১. দীর্ঘ নফল নামাজ ও দীর্ঘ সেজদা
এ রাতে দীর্ঘ কেরাত ও দীর্ঘ সেজদার মাধ্যমে নফল নামাজ পড়া ফজিলতপূর্ণ। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (স.) এই রাতে দীর্ঘ সময় সেজদায় থেকে নামাজ আদায় করতেন (বায়হাকি)। তাই রাতভর সক্ষমতা অনুযায়ী নফল নামাজ পড়া যেতে পারে।

২. তাওবা ও ইস্তেগফার
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এ রাতে আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং বান্দাদের ক্ষমা প্রার্থনা করার ঘোষণা দেন। তাই নিজের কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং আগামীতে সৎপথে চলার অঙ্গীকার করা এ রাতের অন্যতম প্রধান আমল।

৩. বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত
নামাজ ও দোয়ার পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াতের আমলটি অত্যন্ত সওয়াবের। একাধিক হাদিসের সারমর্ম অনুযায়ী, যারা কোরআন তেলাওয়াত করে তারা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের অধিকারী হয় (ইবনে মাজাহ)। অর্থসহ কোরআন তেলাওয়াত এ রাতের ইবাদতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।

৪. ১৫ই শাবানের রোজা রাখা
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে ১৫ই শাবানের রোজা রাখার নির্দেশনা রয়েছে। সনদের দিক থেকে এই বর্ণনাটি দুর্বল হলেও ফজিলত অর্জনের ক্ষেত্রে বহু আলেম এর ওপর আমল করার অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়া আইয়ামে বিজের (প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) নফল রোজার অংশ হিসেবেও এই রোজাটি রাখা যায়।

৫. জিকির-আজকার ও তাসবিহ পাঠ
পুরো রাত ইবাদতে কাটানোর জন্য নফল নামাজের মাঝে বিরতি নিয়ে তসবিহ-তাহলিল ও জিকির করা যেতে পারে। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও দুরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে সজীব রাখা এই রাতের গুরুত্বপূর্ণ আমল।

৬. হিংসা ও শিরক থেকে অন্তর পবিত্র রাখা
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রাতে আল্লাহ মুশরিক এবং যার অন্তরে অন্যের প্রতি হিংসা আছে- তাদের ক্ষমা করেন না। তাই আমল কবুলের পূর্বশর্ত হিসেবে আমাদের উচিত অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়া।

সতর্কতা ও বর্জনীয়
শবে বরাতে বিশেষ কোনো ধরাবাঁধা নিয়মে নামাজ পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রচলিত বানোয়াট পদ্ধতি ও বিদআত পরিহার করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করাই সুন্নাহর সঠিক পথ। এছাড়া আতশবাজি, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা দলবদ্ধ হয়ে উচ্চশব্দে জিকিরের মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা জরুরি।

আসুন, বিশুদ্ধ আমলের মাধ্যমে আমরা এই রাতের বরকত ও মাগফিরাত অর্জনে সচেষ্ট হই। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই রাতের মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

AHA
আরও পড়ুন