আসছে পবিত্র রমজান, প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান। মহিমান্বিত রমজানের ঠিক আগের এই মাসকে বলা হয় 'ইবাদতের রিহার্সাল' বা প্রস্তুতির সময়। রহমত, বরকত আর মাগফিরাতের মাস রমজানের আগে এই মাসের আগমন। বলা যায়, শাবান হলো রমজানের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব আহ্বান—‘প্রস্তুত হও।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি শাবান মাসে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন। এর মাধ্যমে তিনি উম্মতকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, রমজানের আগে নিজেকে মানসিক, আত্মিক ও আমলগতভাবে প্রস্তুত করা কতটা জরুরি।

১. ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা

আমাদের অনেকেই রমজান এলে হঠাৎ করে বেশি ইবাদতে মনোযোগী হতে চাই। কিন্তু অভ্যাস না থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। শাবান মাস হতে পারে সেই অভ্যাস তৈরির সেরা সময়। এই মাসে চেষ্টা করা যেতে পারে—

নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা।
নফল নামাজ ও নফল রোজা শুরু করা।
কোরআন তিলাওয়াতের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা।
অল্প অল্প করে শুরু করলে রমজানে তা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে।

২. আত্মসমালোচনা ও তওবার সময়

যেকোনো বড় কাজের আগে প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো নিয়ত। পেছনের সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তাওবা করে নিন। মনকে পরিষ্কার করুন যাতে রমজানের রহমত সেখানে ঠাঁই পায়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করুন, এবারের রমজান হবে আমার জীবনের সেরা রমজান।

নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—

আমি কি আল্লাহর হক যথাযথভাবে আদায় করেছি?
মানুষের হকের ব্যাপারে কি সচেতন ছিলাম?
আমার চরিত্র, কথা ও আচরণ কি একজন মুসলিম হিসেবে সুন্দর ছিল?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আন্তরিক তাওবা করলে রমজান হবে আরও অর্থবহ।

৩. মন ও চরিত্রের প্রস্তুতি

রমজান শুধু উপোস থাকার মাস নয়। এটি সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির মাস। তাই শাবান মাসেই মনকে প্রস্তুত করা দরকার।

এ সময় চেষ্টা করা যেতে পারে—

অযথা রাগ, হিংসা ও অহংকার থেকে দূরে থাকতে।
গিবত, মিথ্যা ও কটু কথা পরিহার করতে।
পরিবার ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর করতে।
কারণ বিশুদ্ধ মন ছাড়া ইবাদতের স্বাদ পাওয়া যায় না।


৪. দোয়া ও প্রত্যাশার মাস

শাবান মাসে বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই দোয়াটি—

“হে আল্লাহ, আমাদের শাবান ও রজব মাসে বরকত দিন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”

রমজান পাওয়াই একটি বড় নিয়ামত। অনেকে এই মাসের অপেক্ষায় থেকেও তা পান না। তাই এই মাসে আল্লাহর কাছে বেশি করে প্রার্থনা করা উচিত, যেন আমরা সুস্থ অবস্থায়, ঈমানসহ রমজান পেতে পারি।

৫. বাজে অভ্যাস বর্জন

আমরা অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া বা অহেতুক আড্ডায় প্রচুর সময় নষ্ট করি। রমজানে এই সময়টুকু ইবাদতে ব্যয় করতে চাইলে এখনই স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনার প্র্যাকটিস করুন।

৬. দান-সদকার চর্চা

দান করলে মন নরম হয়। রমজানে অঢেল সওয়াব পাওয়ার নেশায় আমরা দান করি, কিন্তু তার চর্চা শুরু হোক শাবান থেকেই। আপনার আশেপাশের অভাবী মানুষগুলোর খোঁজ নিন। তাদের রমজান যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কাটে, সেই দায়িত্ব নেওয়াও একটি বড় ইবাদত।

৭. বাস্তব প্রস্তুতি

আত্মিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কিছু বাস্তব প্রস্তুতিও জরুরি—

রমজানের দৈনন্দিন রুটিন আগেই ঠিক করে নেওয়া।
কাজ ও ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা করা।
পরিবারকে মানসিকভাবে রমজানের জন্য প্রস্তুত করা।
এতে করে রমজান শুরু হলে আর এলোমেলো ভাব থাকবে না।

শাবান মাস হলো বীজ বপনের সময়, আর রমজান হলো ফসল তোলার। আপনি যদি শাবানে অলসতা করেন, তবে রমজানের ফল প্রত্যাশা করা কঠিন হয়ে পড়বে। আসুন, আমরা এই মাসটিকে অবহেলায় না কাটিয়ে রহমতের জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিই। যেন রমজান এসে আমাদের বদলে দেয়, শুদ্ধ করে, আল্লাহর আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়।

HN
আরও পড়ুন