বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়, আবারও অন্ধকারে কিউবা

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৬, ১১:২৬ এএম

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। এতে দেশটির ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম’ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। মূলত হাসপাতাল এবং পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা করছে গ্রিড অপারেটর ‘ইউএনই’ (UNE)।

দেশটির এই চরম জ্বালানি সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পুরনো অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় তেলের অভাবে চলতি মাসে এ নিয়ে তিনবার বড় ধরনের ব্ল্যাকআউটের শিকার হলো দেশটি। এই সংকটের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট ‘নুয়েস্ট্রা আমেরিকা’ কনভয় নিয়ে হাভানার পথে রয়েছে, যারা সৌর প্যানেল, খাদ্য এবং ওষুধ সহায়তা দিচ্ছে।

এদিকে, বিদ্যুৎহীনতায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী হাভানায় থালা-বাসন বাজিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয়রা। কিউবার মধ্যাঞ্চলীয় শহর মোরোনে বিক্ষোভকারীরা কমিউনিস্ট পার্টির সদর দপ্তরে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, কিউবায় অননুমোদিত বিক্ষোভ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর জন্য জেল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এই সংকটের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও জটিল করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কিউবার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। জানা গেছে, ট্রাম্প কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলের পদত্যাগকেই জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে দেখছেন। এমনকি ট্রাম্প কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখলের’ (Friendly takeover) ইঙ্গিতও দিয়েছেন। জবাবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল জানিয়েছেন, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত এবং কিউবার রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। সূত্র: বিবিসি

SN
আরও পড়ুন