হেদায়েত পাওয়ার ১১ দোয়া

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৪৬ এএম

হেদায়েত আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া। অহংকারীদের আল্লাহ তায়ালা হেদায়েতের আলো থেকে বঞ্চিত রাখেন। অহংকারের কারণে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম হেদায়েত বঞ্চিত হয়েছিল ইবলিস। জ্ঞান-গরিমা যোগ্যতায় সে ফেরেশতাদের ছাড়িয়ে গিয়েছিল, কিন্তু অহংকারের কারণে সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে আসে।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, তিনি (আল্লাহ) বললেন, কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে যে, সিজদা করছ না, যখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছি? সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে। (সুরা আরাফ, আয়াত- ১২)

তবে যারা আন্তরিকতা নিয়ে একনিষ্ঠ মনে হেদায়েত লাভের জন্য চেষ্টা করেন আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়েত দান করেন। বর্ণিত হয়েছে, আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় তাদেরকে আমি অবশ্য অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন। ( সূরা আনকাবুত (২৯), আয়াত- ৬৩)

অর্থাৎ, যারা একনিষ্ঠ মনে আল্লাহর পথে চলতে চায় তাদেরকে মহান আল্লাহ তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন না। বরং তিনি তাদেরকে পথ দেখান এবং তার দিকে যাওয়ার পথ তাদের জন্য খুলে দেন। তারা তার সন্তুষ্টি কিভাবে লাভ করতে পারে তা তিনি প্রতি পদে পদে তাদেরকে জানিয়ে দেন।

এজন্য মানুষের চেষ্টা করতে হয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করে তার মাঝে ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘শপথ প্রাণের এবং তার, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন। তারপর তাকে তার সৎকাজের এবং তার অসৎ-কাজের জ্ঞান দান করেছেন। সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্মাকে পবিত্র করেছে। আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে। (সূরা শামস (৯১), আয়াত- ৭-৯)

ভালোমন্দ দুই পথই মানুষের সামনে স্পষ্ট। তবে ভালো ও আলোর পথ পেতে মানুষকে নিজের থেকে চেষ্টা করতে হবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, আর আসি ভালো ও মন্দ উভয় পথ তার জন্য সুস্পষ্ট করে রেখে দিয়েছি। (সূরা আল-বালাদ, আয়াত-১০)

আরও বলা হয়েছে, আমি তাদেরকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি, চাইলে তারা কৃতজ্ঞ হতে পারে আবার চাইলে হতে পারে অস্বীকারকারী। (সূরা আল-ইনসান, আয়াত- ৩)

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা সৎপথের সন্ধান করবে, তাদেরকে সৎপথের সন্ধান দেয়াই আল্লাহ তায়ালার নীতি। আয়াত থেকে এটাও বোঝা যায় যে, যে ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র করতে চেষ্টা করে সে সফল হয়।

আল্লাহর কাছে হেদায়েত পাওয়ার জন্য ১১টি দোয়া রয়েছে। যেসব আবেদনে আল্লাহ বান্দাকে হেদায়েত দান করবেন।

পবিত্র কোরআন-সুন্নাহতে বর্ণিত হেদায়েত পাওয়ার ১১টি দোয়া তুলে ধরা হলো-

১. اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণ: ইহদিনাস সিরাত্বাল মুসতাক্বিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল পথ দেখাও। (সুরা ফাতিহা)

২. اللَّهُمَّ إِنِي أَسْأَلُكَ الهُدَى، وَالتُّقَى، وَالعفَافَ، والغنَى‎

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াততুক্বা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সুপথ, আল্লাহ ভীতি, চরিত্রের নির্মলতা ও অভাব মুক্তির প্রার্থনা করছি। (তিরমিজি)

৩. اللَّهُمَّ أَلْهِمْنِي رُشْدِي، وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আলহিমনি রুশদি, ওয়া আয়িজনি মিন শাররি নাফসি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে হেদায়েত দান করো এবং নফসের অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো। (তিরমিজি)

৪. রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত হুসাইন ইবনে আলি (রা.) কে দুটি বাক্য দ্বারা দোয়া করতে শিখিয়েছিলেন। দোয়াটি হলো- رَبِّ أَعِنِّي وَلاَ تُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِي وَلاَ تَنْصُرْ عَلَىَّ وَامْكُرْ لِي وَلاَ تَمْكُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي

উচ্চারণ:  রাব্বি আয়িননি ওয়ালা তুয়িন আলাইয়া। ওয়ানসুরনি ওয়া লা তানসুর আলাইয়া। ওয়ামকুর লি ওয়ালা তামকুর আলাইয়া, ওয়াহদিনি ওয়া ইয়াসসিরিল হুদা লি। (ইবনে মাজাহ)

অর্থ: হে আমার রব! আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না। আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না। আমার জন্য কৌশল এঁটো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল এঁটো না। আমাকে হেদায়েত দান করো, আমার জন্য হেদায়েতের পথ সহজতর করো।

৫.  ‏ اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ‏‏ ‏

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রব্বা জিবরাঈলা ওয়া মিকাঈলা ওয়া ইসরাফিলা ফাত্বিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আলিমাল গাইবি ওয়াশ্ শাহাদাতি আন্তা তাহকুমু বাইনা ইবাদিকা ফিমা কানু ফিহি ইয়াখতালিফুন; ইহদিনি লিমা উখতুলিফা ফিহি মিনালহাক্বি বিইজনিকা, ইন্নাকা তাহদি মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুস্তাক্বিম। (মুসলিম)।

অর্থ: হে আল্লাহ! জিবরিল, মীকাল ও ইস্রাফীলের রব, আকাশসমূহ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, গায়েব ও উপস্থিত সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ। তোমার বান্দাগণ যে সব বিষয়ে মতভেদ করে তুমি তার মীমাংসা কর, সত্য থেকে দূরে সরে যে সব বিষয়ে মতভেদ করা হয় সেগুলিতে তোমার সহায়তায় আমাকে সঠিক পথ নির্দেশনা দাও। নিশ্চয় তুমি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন কর। (মুসলিম)

৬.  اَللّٰهُمَّ اهْدِنِيْ وَسَدِّدْنِيْ - اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْهُدٰى وَالسَّدَادَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াস-সাদাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর। হে আল্লাহ! তোমার কাছে হেদায়েত ও সঠিক পথ কামনা করছি। (মুসলিম)

৭.  اللَّهُمَّ ثَبِّتْنى وَاجْعَلْنى هَادِيًا مَهْدِيًّا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাব্বিতনি ওয়াঝআলনি হাদিয়াম মাহদিয়া।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে স্থির রাখুন ও হেদায়েতকারী ও হেদায়েত প্রাপ্ত বানান। (মুসলিম)

৮. اللهمَّ اهْدِني فيمن هديتَ, وعافِني فيمن عافيتَ, وتولَّني فيمن توليتَ, وبارِكْ لي فيما أعطيتَ, وقِنِي شرَّ ما قضيتَ, فإنك تقضي ولا يُقْضَى عليك, وإنَّهُ لا يَذِلُّ من واليتَ, ولا يَعِزُّ من عاديتَ, تباركتَ ربنا وتعاليتَ, لا مَنْجَا منك إلا إليكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহদিনী ফি মান হাদাইত। ওয়া আফিনি ফিমান আফাইত। ওয়া তাওয়াল্লানি ফিমান তাওয়াল্লাইত। ওয়া বারিকলি ফি মা আত্বাইত। ওয়া ক্বিনি শাররা মা ক্বাদ্বাইত। ফাইন্নাকা তাক্বদ্বি ওয়া লা ইউক্বদ্বা আলাইক। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াজিল্লু মাঁউ ওয়া লাইত। ওয়া লা ইয়াইয্‌যু মান আদাইত। তাবারাকতা রাব্বানা ওয়া তাআলাইত। লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইক।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে হেদায়েত করেছ, আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি যাদের নিরাপদ রেখেছ আমাদের তাদের দলভুক্ত কর। তুমি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ, আমাদের তাদের দলভুক্ত করো। তুমি আমাদের যা দিয়েছ তাতে বরকত দাও। তুমি যে অমঙ্গল নির্দিষ্ট করেছ তা থেকে আমাদের রক্ষা করো। নিশ্চয়ই তুমি ফয়সালা করো; তোমার ওপরে ফয়সালা করার কেউ নেই। তুমি যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ, সে কোনও দিন অপমানিত হবে না এবং তুমি যার সাথে শত্রুতা করেছ, সে কখনো সম্মানিত হতে পারবে না। হে আমাদের রব! তুমি বরকতময় ও সুমহান। তোমার পাকড়াও থেকে বাঁচার উপায় নাই তোমার আশ্রয় ছাড়া। (তিরমিজি)

৯.  ‎رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বাদা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রহমাতান, ইন্নাকা আন্তাল ওয়াহহাব।

অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বাঁকা করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮)

১০.  اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ القُلُوبِ صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ

উচ্চারণ: ইয়া মুসাররিফাল কুলুব সাররিফ কুলুবানা আলা ত্বআতিকা।

অর্থ: হে হৃদয়সমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের হৃদয়গুলোকে আপনার আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দিন। (মুসলিম)

১১.  ‎يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِى عَلَى دِينِكَ

উচ্চারণ: ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কলবি আলা দ্বীনিকা।

অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর সুদৃঢ় করে দাও। (তিরমিজি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক পথ ও হেদায়েত পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি এ দোয়াগুলো পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

SM/FI
আরও পড়ুন