স্মরণী-বরণীয়

মুহাম্মদ বিন কাসিম

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম

ইমাদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন কাসিম আস সাকাফি (জন্ম : ৩১ ডিসেম্বর ৬৯৫- মৃত্যু : ১৮ জুলাই ৭১৫) একজন উমাইয়া সেনাপতি ও মুসলিম বিজেতা। মুহাম্মাদ বিন কাসিম নামেই পরিচিত। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্তর্ভুক্ত সিন্ধু নদসহ সিন্ধু এবং মুলতান জয় করে তা ইসলামি উমাইয়া খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত করেন। ৭১২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু বিজয় করেন। ফলে মুসলিমদের জন্য ভারত বিজয়ের পথ প্রশস্ত হয়। মুসলিম বাহিনী সিন্ধুর রাজধানী আরোর দখলের সঙ্গে সঙ্গে মোহাম্মদ বিন কাসিম প্রথম মুসলিম বিজেতা হন। মুসলিমদের পারস্য বিজয়ের পর তিনি তার ছোট চাচা মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আস সাকাফির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ফার্সের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর ৭০৮ থেকে ৭১১ সাল পর্যন্ত তিনি সিন্ধু বিজয়ের নেতৃত্ব দেন এবং বিজয় অর্জন হওয়ার পর তিনি সমগ্র অঞ্চলে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

সমসাময়িক গ্রন্থাবলিতে মোহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধু বিজয় সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া না গেলেও ইসলামি ইতিহাসের পরবর্তী রচনাবলিতে এই বিষয়ে ব্যাপক বর্ণনা রয়েছে। লেখক এবং ঘটনাবলীর মাঝে শত বছরের ব্যবধান থাকার কারণে তা বর্ণনায় সনদ উল্লেখ করা হয়েছে।

মুহাম্মদের জন্ম আনুমানিক ৬৯৪ সালে। তার জন্মস্থান প্রায় নিশ্চিতভাবে হেজাজের (পশ্চিম আরব) তায়েফ বা মক্কা অথবা মদিনা, যা সাকিফ গোত্রের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তাদের সাধারণ ইসলাম গ্রহণের পর আনুমানিক ৬৩০ সালে সাকিফের সদস্যরা ধীরে ধীরে খিলাফতে রাশিদায় উচ্চ সামরিক ও প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হয়। ৬৩৬ সালে বাহরাইনের সাকাফি (পূর্ব আরব) গভর্নর উসমান বিন আবুলআস ভারতীয় বন্দর দেবাল, থানে ও ভারুচের বিরুদ্ধে নৌ অভিযান প্রেরণ করেছিলেন।

মুহাম্মদের প্রথম দায়িত্ব ছিল আধুনিক ইরানের ফর্স প্রদেশে, যেখানে তাকে কুর্দিদের একটি বিচ্ছিন্ন দলকে বশীভূত করতে বলা হয়েছিল। মিশন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ফারসের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর শিরাজ শহরটিকে মুহাম্মদ পুনরুজ্জীবিত করেন বলে জানা যায়।

খেলাফতে রাশেদার সময় প্রাথমিক মুসলিম মিশনারি দ্বারা হিন্দু অধ্যুষিত সিন্ধু ও ইসলামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়। হাকিম ইবনে জাবালা আবাদি, যিনি ৬৪৯ সালে মাক্রান আক্রমণ করেছিলেন, তিনি ছিলেন আলী ইবনে আবু তালিবের প্রথম দিকের পক্ষপাতী। আলী (রা.) এর খিলাফতকালে সিন্ধুর অনেক জাট ইসলামের প্রভাবে আসেন এবং কেউ কেউ উটের যুদ্ধে অংশ নিয়ে আলীর পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন।

সিন্ধু বিজয়ের পর মুহাম্মাদ বিন কাসিমের কাজ ছিল একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে এতে একটি প্রশাসনিক কাঠামো স্থাপন করা, যা একটি নতুন বিজিত বিদেশী ভূমিকে অন্তর্ভুক্ত করবে, যেখানে পূর্বে অমুসলিমদের বসবাস ছিল। তাই মুহাম্মাদ একটি সমঝোতামূলক নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং স্থানীয়দের তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ না করার বিনিময়ে মুসলিম শাসন মেনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এর বিনিময়ে ইসলামি রাষ্ট্র অমুসলিমদের যেকোন বিদেশী আক্রমণ ও শত্রুর হাত থেকে সুরক্ষার ওয়াদা করা হয়।

মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১৫ সালের ১৮ জুলাই ইরাকের মসুলে মারা যান। কিছু সূত্র বলেছে যে, বিন কাসিমের মৃতদেহ বেলুচিস্তানের মাক্রানে হিঙ্গল জাতীয় উদ্যানে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যা এখন পাকিস্তানের অংশ।

আরও পড়ুন