বন্ধুত্ব করবেন কার সঙ্গে, ইসলাম কী বলে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০৫:০০ পিএম

মনের একান্ত কথা ও অনুভূতি প্রকাশে বন্ধুত্বের প্রয়োজন অপরিহার্য। কেননা বন্ধু মানুষের জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আর আচার-আচরণের মাধ্যমে মানুষ একজনকে তার বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। কিন্তু কাকে বন্ধু করা যাবে আর কাকে বন্ধু করা যাবে না এ সম্পর্কে কোরআনে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। কী সেই দিকনির্দেশনা?

কোরআন ও হাদিসে বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَ الۡمُؤۡمِنٰتُ بَعۡضُهُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ۘ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ یَنۡهَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡكَرِ وَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ یُؤۡتُوۡنَ الزَّكٰوۃَ وَ یُطِیۡعُوۡنَ اللّٰهَ وَ رَسُوۡلَهٗ ؕ اُولٰٓئِكَ سَیَرۡحَمُهُمُ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیۡزٌ حَكِیۡمٌ
‘আর ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার নারী একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৭১)

এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতি অনুসরণ করে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)

কোরআনের এই আয়াত ও হাদিসে বন্ধু নির্বাচনে একজন মানুষ যেসব গুণ বিবেচনা করতে পারে তার ঈঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এখানে মূলত ভালো চরিত্রের ঈমানদার ব্যক্তিদের বন্ধু বানানোর প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

অসৎ, মন্দ ও অবিশ্বাসীদের বন্ধু বানানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে কোরআনের অন্য আয়াতে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—
لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡكٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِكَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰهِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡهُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفۡسَهٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ الۡمَصِیۡرُ

বিশ্বাসী (মুমিন)গণ যেন বিশ্বাসী (মুমিন)দেরকে ছাড়া অবিশ্বাসী (কাফের)দেরকে অভিভাবক (বা অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ না করে। যে কেউ এমন করবে, তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাদের কাছ থেকে কোনো ভয় আশংকা করো (তাহলে আত্মরক্ষার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে পার।) আর আল্লাহ তার নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন এবং আল্লাহর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ২৮)

এ আয়াতে অবিশ্বাসী কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, মুসলিমদের কোনো ব্যাপারে সাহায্য-সহযোগিতার চুক্তি করার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, যে কেউ সেটা করবে তার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহর দ্বীনে তার কোনো অংশ থাকবে না। কেননা কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ঈমানের সাথে একত্রিতভাবে থাকতে পারে না। ঈমান শুধু আল্লাহ ও আল্লাহর বন্ধু মুমিনদের সাথে সম্পর্ক রাখতে বলে যারা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে এবং আল্লাহর শত্রুদের সাথে লড়াই করে।

MMS
আরও পড়ুন