মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) দীর্ঘ ২৭ বছরের এক উজ্জ্বল ও নক্ষত্রময় কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিংবদন্তি নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নাসা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার অবসরের ঘোষণা দেয়, যা গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
৬০ বছর বয়সী এই নভোচারী বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি দিল্লির আমেরিকান সেন্টারে ‘আইজ অন দ্য স্টারস, ফিট অন দ্য গ্রাউন্ড’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি মহাকাশে কাটানো তাঁর রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।
সুনীতা উইলিয়ামস তাঁর ক্যারিয়ারে তিনটি প্রধান মহাকাশ মিশনে অংশ নিয়ে সর্বমোট ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটিয়েছেন। এটি নাসার ইতিহাসে যেকোনো মহাকাশচারীর জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়। এছাড়া তিনি ৯টি স্পেসওয়াক (মহাকাশে হাঁটা) সম্পন্ন করেছেন, যার মোট সময়সীমা ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। এটি একজন নারী হিসেবে মহাকাশে হাঁটার দীর্ঘতম বিশ্ব রেকর্ড এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মহাকাশে থাকাকালীন ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন।
২০২৪ সালের জুনে বোয়িং স্টারলাইনারে চড়ে মাত্র ৮ দিনের জন্য মহাকাশে গিয়েছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস ও তাঁর সহযাত্রী বুচ উইলমোর। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেই মিশন ৯ মাসের দীর্ঘ চ্যালেঞ্জে রূপ নেয়। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে তাঁরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁর নেতৃত্ব ও সাহসিকতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
নাসার প্রশাসক জারেড আইস্যাকম্যান তাকে একজন ‘পথিকৃৎ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সুনীতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। তাঁর কাজ চাঁদ ও মঙ্গলে পরবর্তী অভিযানের ভিত তৈরি করে দিয়েছে।’
অবসর প্রসঙ্গে আবেগঘন বার্তায় সুনীতা বলেন, ‘মহাকাশই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নাসায় কাটানো এই ২৭ বছর আমার জীবনের এক অনন্য সম্মান।’
সুনীতা উইলিয়ামসের জন্ম ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওতে। তার বাবা দীপক পান্ডিয়া ভারতের গুজরাটের মেহসানা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। নাসায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর একজন দক্ষ হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০ বছর পর শক্তিশালী সৌরঝড়ের আঘাত
প্রথমবার উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস দেখলো মানুষ
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা ‘গিলে’ নিচ্ছে চাঁদ
