স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয় এর গবেষকেরা মাছের আঁশ ব্যবহার করে একটি কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি করেছেন, যা চোখের রোগীদের জন্য দাতার কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের তুলনায় কম খরচে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তর, যা আলোকে চোখের ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণত নিজে থেকে সেরে ওঠে না। রক্তনালি না থাকায় এর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও জটিল। এ কারণে গুরুতর কর্নিয়া সমস্যায় সাধারণত দাতার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করতে হয়।
তবে অঙ্গদানের সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক রোগী সময়মতো এই চিকিৎসা পান না। গবেষকেরা মনে করছেন, মাছের আঁশ থেকে তৈরি কৃত্রিম কর্নিয়া এই সংকট কিছুটা কমাতে পারে।
গবেষণা দলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সহজলভ্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আঁশ ব্যবহার করে তৈরি এই কর্নিয়া স্বচ্ছ, টেকসই এবং যথেষ্ট সহনশীল। ইনগ্রিড গারসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক, বলেন সহজ উৎসের কারণে এটি সহজে সংগ্রহ করা সম্ভব এবং খরচও তুলনামূলক কম। পাশাপাশি এটি স্থানীয় মৎস্য শিল্পকেও উৎসাহিত করতে পারে।
পরীক্ষাগার ও প্রাণীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় নতুন এই কৃত্রিম কর্নিয়ার কার্যকারিতা আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। তবে মানবদেহে ব্যবহারের আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন আরেক হিস্টোলজি অধ্যাপক মিগেল আলামিনোস।
তিনি বলেন, প্রচলিত কর্নিয়া প্রতিস্থাপন সাধারণত ভালো ফল দিলেও অঙ্গদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ২০১৬ সালে অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয় এর এক সমীক্ষায়ও দেখা গিয়েছিল, মাছের আঁশ থেকে তৈরি কৃত্রিম কর্নিয়া মানুষের শরীরের সঙ্গে জৈবিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি কার্গো জাহাজে হামলা
মার্কিন ও ইসরায়েলি ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
