কার্ড হাতে থাকলেও অর্থ নিরাপদ নয়, সচেতনতা মূল প্রতিরক্ষা

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডটি সব সময় নিজের কাছে থাকলেও যে অর্থ নিরাপদ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা এখন আর নেই। মোবাইলে ব্যাংকের বার্তা আসার পর অনেকেই জানতে পারছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অজান্তেই টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সুবিধা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে কার্ড জালিয়াতির নতুন নতুন কৌশলও, ফলে শুধু কার্ড সঙ্গে রাখাই এখন নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। সচেতনতা ও সতর্কতাই এখানে মূল প্রতিরক্ষা।

অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ কার্ড জালিয়াতির শিকার হয়েছেন এবং এতে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। কার্ড জালিয়াতি বলতে ডেবিট, ক্রেডিট বা ইএফটিপিওএস কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে মালিকের অনুমতি ছাড়া কেনাকাটা বা টাকা উত্তোলনকে বোঝানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় কার্ডটি মানিব্যাগে থাকলেও এর তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে।

মেলবোর্নের সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানার রেবেকা প্রিচার্ড জানান, কার্ড স্কিমিং হলো এটিএম বা পেমেন্ট টার্মিনালে গোপনে ডিভাইস বসিয়ে কার্ডের তথ্য চুরি করার একটি পদ্ধতি। কার্ড সোয়াইপ বা প্রবেশ করানোর সময় সেই ডিভাইস তথ্য সংগ্রহ করে এবং একই সময়ে ছোট ক্যামেরা বা নকল কীপ্যাডের মাধ্যমে পিন নম্বরও চুরি করা হয়।

বর্তমানে বেশিরভাগ জালিয়াতি অনলাইনে হলেও স্বতন্ত্র এটিএম বুথ ও পেট্রোল স্টেশনের পেমেন্ট মেশিনে স্কিমিংয়ের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। তাই এটিএম ব্যবহারের আগে কার্ড রিডার ভালোভাবে পরীক্ষা করা, কোনো অংশ আলগা বা অস্বাভাবিক মনে হলে ব্যবহার না করা এবং পিন দেওয়ার সময় কীপ্যাড হাত দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্ভব হলে কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট ব্যবহার করাও নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের তদন্ত বিভাগের প্রধান ক্রিস শিহান জানান, অনেক সময় ডাকযোগে পাঠানো নতুন কার্ডও চুরি হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যেখানে একসঙ্গে অনেক লেটারবক্স থাকে এমন আবাসনে ব্যাংকের খাম থেকে কার্ড হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এছাড়া ফিশিং প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার পরিচয়ে ফোন, ই-মেইল বা এসএমএস পাঠিয়ে কার্ডের তথ্য, পিন বা ওটিপি নেওয়া হয়। অনিরাপদ ওয়েবসাইটে তথ্য প্রদান বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে লেনদেন করলে তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়ে। আবার অ্যাকাউন্ট টেকওভারের মাধ্যমে প্রতারকরা অনলাইন ব্যাংকিং বা শপিং অ্যাকাউন্টে ঢুকে অনুমতি ছাড়াই কেনাকাটা বা অর্থ স্থানান্তর করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতারকরা প্রথমে ছোট অঙ্কের লেনদেন দিয়ে কার্ড সক্রিয় আছে কি না পরীক্ষা করে। মোবাইল ওয়ালেট যেমন অ্যাপল পে বা গুগল পে ব্যবহারে নিরাপত্তা বাড়ে, কারণ এতে বায়োমেট্রিক যাচাই থাকে এবং কার্ডের আসল তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছায় না।

পাশাপাশি পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, অচেনা বার্তায় সতর্ক থাকা, ট্রানজেকশন নোটিফিকেশন চালু রাখা এবং প্রয়োজন না থাকলে বিদেশি লেনদেন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এইচটিটিপিএস ও তালা চিহ্নযুক্ত নিরাপদ ওয়েবসাইট ব্যবহার এবং পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলাও জরুরি।

কার্ড হারানো, চুরি হওয়া বা সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি সম্ভব হলে মোবাইল অ্যাপ থেকে কার্ড সাময়িকভাবে লক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, অনুমোদনহীন লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যাংক তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ দিলেও তা নিশ্চিত নয়; বিষয়টি নির্ভর করে দ্রুত রিপোর্ট করা হয়েছে কি না এবং ব্যবহারকারীর কোনো অবহেলা ছিল কি না তার ওপর।

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে তাই শুধু কার্ড বহন করাই নিরাপত্তা নয়, বরং নিয়মিত নজরদারি, নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস এবং সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই কষ্টার্জিত অর্থকে প্রতারণা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

সূত্র: অস্ট্রেলিয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন 

Attr/AHA
আরও পড়ুন