বিপিএলে ফিক্সিং ও জুয়ার থাবা, ১ ক্রিকেটারসহ ৫ কর্মকর্তা নিষিদ্ধ

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে বড় ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টুর্নামেন্টে জুয়া, ফিক্সিং এবং তদন্তে অসহযোগিতার দায়ে এক ক্রিকেটারসহ মোট পাঁচজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বিসিবি এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

বিসিবির নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন:
১. অমিত মজুমদার: ক্রিকেটার (রংপুর রাইডার্সের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমানে রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে ডিপিএল খেলছেন)।
২. মো. লাবলুর রহমান: টিম ম্যানেজার, চট্টগ্রাম রয়্যালস।
৩. সামিনুর রহমান: টিম ম্যানেজার, চট্টগ্রাম রয়্যালস।
৪. তৌহিদুল হক তৌহিদ: সহ-মালিক, নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
৫. রেজওয়ান কবির: ফ্র্যাঞ্চাইজি ম্যানেজার, সিলেট।

বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিপিএলে সরাসরি দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা, বেটিং বা জুয়া খেলা, তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করা এবং তথ্য গোপন বা মুছে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। 

বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিশাল তদন্ত রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে এই শাস্তির সুপারিশ করেন।

অভিযুক্ত পাঁচজনকে বর্তমানে সাময়িকভাবে সকল ধরণের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সামিনুর রহমান ছাড়া বাকি চারজন অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। তবে সামিনুর রহমানকে ‘নোটিশ অব ইনটেনডেড এক্সক্লুশন অর্ডার’ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তার আপিল বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো আইনি অধিকার থাকছে না।

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের এই জট খুলতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী নিবিড় তদন্ত শেষে গত অক্টোবরে কমিটি বিসিবির কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেয়। সেখানে ডিজিটাল যোগাযোগ ও অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে এই পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিসিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্রিকেটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত