দীর্ঘদিন ধরেই বাফুফে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিভাবান ফুটবলারদের সন্ধানে কাজ করছে। অনূর্ধ্ব-২০ দলে রোনান ও ডেক্লান সুলিভানের পর এবার সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক দলের জন্য বড় চমক হতে যাচ্ছেন ফারহান ও রায়ান। তারা যমজ না হলেও, দুই ভাই-ই ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
যেভাবে সম্পন্ন হলো আলোচনা
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে। দুই ভাইয়ের ফুটবল এজেন্ট (যুক্তরাজ্য ভিত্তিক কোম্পানি) অ্যাডাম রবার্টস বাফুফেকে একটি অফিশিয়াল ইমেইল পাঠান।
ফারহানের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইমেইলটি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল দ্রুত সহ-সভাপতি ও টেকনিক্যাল টিমের কাছে পাঠান।
ঠিক ওই সময়ে ফিফা ও এএফসি কংগ্রেসে অংশ নিতে কানাডায় ছিলেন বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। খেলোয়াড়দের প্রোফাইল দেখে তিনি কানাডা থেকেই এজেন্ট অ্যাডামের সাথে যোগাযোগ করেন।
পরবর্তীতে দুই ভাই, তাদের বাবা আব্দুল এবং এজেন্টের সাথে একটি দীর্ঘ জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ম্যাচের সময়সূচি নিয়ে আলোচনার পর তাদের পরিবার ছেলেদের বাংলাদেশের হয়ে খেলার বিষয়ে পূর্ণ সম্মতি প্রদান করে।
বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানান,‘আমরা ইতিমধ্যেই দুই ভাইয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছি। আসন্ন ঈদুল আজহার পরপরই বাকি দাপ্তরিক কাজ শেষ হবে। আশা করছি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে তাদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।’
বড় ভাই ফারহান: আক্রমণভাগের নতুন অস্ত্র
চেলসির যুব একাডেমি থেকে ফুটবলের পাঠ নেওয়া ফারহান আলী ওয়াহিদ বর্তমানে খেলছেন ফুলহ্যাম এফসির হয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ-২-এ খেলা এই লেফট উইঙ্গার চলতি মে মাসের 'প্লেয়ার অব দ্য মান্থ' নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে গত নভেম্বর মাসেও তিনি এই মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং বর্তমানে তিনি 'প্লেয়ার অব দ্য সিজন'-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন।
ডান পায়ে খেলা এই উইঙ্গার গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করতেও দারুণ পারদর্শী। আগামী সেপ্টেম্বর উইন্ডোতেই (দেশের মাটিতে কোনো টুর্নামেন্ট বা বিদেশ সফর) তাকে জাতীয় দলে দেখা যেতে পারে। এছাড়া নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ফারহানকে পাওয়া যাবে বলে শতভাগ আশাবাদী বাফুফে।
ছোট ভাই রায়ান: মাঝমাঠের ভবিষ্যৎ
ফারহানের ছোট ভাই রায়ান আলি ওয়াহিদ একজন দক্ষ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তৃণমূল স্তরের দল শফ এফসির হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে দলটিকে চ্যাম্পিয়ন করতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বর্তমানে ওকিং এফসির হয়ে খেলা রায়ানের বয়স কম হওয়ায় তাকে খুব সহজেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ কিংবা অনূর্ধ্ব-২৩ দলে যুক্ত করা যাবে।
বাফুফের এই নতুন ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ওয়াহিদ ব্রাদার্সের অন্তর্ভুক্তি লাল-সবুজের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক নয়
আমরা একসাথে লেবাননকে মুক্ত ও পুনর্গঠন করবো
দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী