ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো চলমান বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকা জুড়ে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ে ২৪টি ম্যাচ দেখেছেন এবং এর জন্য তাকে আকাশপথে হাজার হাজার মাইল ভ্রমণ করতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিনটি দেশ জুড়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টটিতে ১৬টি স্বাগতিক শহর রয়েছে; এছাড়া গ্রুপ পর্বের পরিধি বাড়ানোয় ম্যাচের সংখ্যাও আগের চেয়ে অনেক বেশি।
বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি স্পোর্ট একটি ব্যক্তিগত জেট বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে, যা ফিফা ও ইনফান্তিনোর সাথে সংশ্লিষ্ট। টুর্নামেন্ট চলাকালে বিমানটি ২৭ বার বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করেছে, যেখানে ফিফা প্রধানকে ম্যাচ উপভোগ করতে দেখা গেছে।
মাত্র দুই সপ্তাহে এই জেট বিমানটি ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা গড়ে ৭৮ জন মানুষের সারা বছরের কার্বন নিঃসরণের সমান।
ফিফা সভাপতি কতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন?
টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব চলাকালীন ইনফান্তিনো বেশ কয়েকবার দিনে দুটি করে ম্যাচ দেখেছেন; প্রায়শই তাকে শত শত মাইল দূরত্বের দুটি ভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে হয়েছে। কোনো কোনো দিন তাকে তিনটি আলাদা ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে হয়েছে।
এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা সভাপতিকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি এক্সিকিউটিভ জেটে চড়তে দেখা গিয়েছিল এবং জানা গেছে যে, এই বিশ্বকাপে তিনি ‘গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর’ বিমানে যাতায়াত করছেন।
বিবিসি এ বিষয়ে ফিফার কাছে নিশ্চিতকরণ তথ্য চেয়েছিল। ফিফা কোনো সাড়া দেয়নি। তবে বিমান-ট্র্যাকিং ডেটা ব্যবহার করে ওই বিমানটির যাত্রাপথ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতিটি যাত্রার গন্তব্য এবং সেই নির্দিষ্ট তারিখে সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর স্টেডিয়ামে ইনফান্তিনোর উপস্থিতির প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে হুবহু মিল রয়েছে।
প্রথম দুই সপ্তাহে ইনফান্তিনো যে দীর্ঘতম বিমানযাত্রাটি করেছেন তা ছিল ২,৮০০ মাইলের (৪,৫০৭ কিমি)। ১৩ জুন অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার খেলা দেখার পর ভ্যাঙ্কুভার থেকে মায়ামি পর্যন্ত গিয়েছেন।
তিনি কিছু স্বল্প দূরত্বের যাত্রাও করেছেন; যেমন ২২ জুন তার বিমানটি ফিলাডেলফিয়া থেকে নিউ জার্সির টেটারবোরো বিমানবন্দরে ৯২ মাইল (১৪৮ কিমি) পথ পাড়ি দেয়।
সেখানে কোনো খেলা না দেখলেও, পরদিন সকালে পাশের নিউ ইয়র্কের ফক্স নিউজ স্টুডিওতে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন এবং এরপর বোস্টন ও টরন্টোতে খেলা দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তিনি বেলজিয়াম ও মিশরের মধ্যকার খেলা দেখার জন্য মায়ামি থেকে সিয়াটল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ২,৭০০ মাইলেরও (৪,০০০ কিমি) বেশি পথ পাড়ি দেন। এরপর তিনি প্রায় ৯৬০ মাইল (১,৫৪৫ কিমি) দক্ষিণে লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং সেখানে সন্ধ্যায় ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি দেখেন।
যাত্রার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিন ছিল ২৬ জুন; সেদিন ব্যক্তিগত বিমানটি মায়ামি থেকে উড্ডয়ন করে ডালাসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেয় এবং এরপর সিয়াটলে পৌঁছায়, যেখানে মিশর ও ইরানের মধ্যকার ম্যাচে ইনফান্তিনোকে দেখা যায়।
সিয়াটলে পৌঁছানোর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বিমানটি আবার মায়ামির উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং আরো ২,৭০০ মাইল (৪,৩৪৪ কিমি) পথ পাড়ি দিয়ে পরদিন সকালে সেখানে অবতরণ করে।
পরদিন মায়ামিতে ইনফান্তিনো গ্রুপ পর্বের তার ২৪তম ও শেষ ম্যাচটি দেখেন, যেখানে পর্তুগাল ও কলম্বিয়া মুখোমুখি হয়েছিল।
আমাদের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়া থেকে ২৭ জুনের মধ্যে ব্যক্তিগত বিমানটি সামগ্রিকভাবে অন্তত ৩১,১৪৪ মাইল (৫০,১২২ কিমি) পথ পাড়ি দিয়েছে এবং আকাশে ৬৬ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত করেছে।