আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে: মিসরের কোচ

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে মিশর। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কাছে হেরে যাওয়াকে ‘প্রতারণা’ ও ‘অন্যায়’ বলে দাবি করেছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান।

তাঁর অভিযোগ, ম্যাচ অফিশিয়ালরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্য পক্ষপাতিত্ব করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নেমেও ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় ইয়াসের ইব্রাহিমের হেড থেকে লিড নেয় মিশর। এরপর প্রথমার্ধে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ফাউল করার কারণে আর্জেন্টিনা একটি পেনাল্টি পেলেও লিওনেল মেসির নেওয়া শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব। এর ফলে বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি, যার মধ্যে দুটি মিস এই চলমান টুর্নামেন্টেই।

ম্যাচের একপর্যায়ে মিশর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় মোস্তফা জিকোর একটি গোল ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয়ে যায়। এর কারণ হিসেবে দেখানো হয়, আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করা হয়েছিল। অবশ্য পরে এই মোস্তফা জিকোই গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেন।

তবে এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো প্রথমে ব্যবধান কমানোর পর লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে নিজের ৮ম গোলটি করে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান। বিতর্ক তৈরি হয় আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের সময়। এনজো ফার্নান্দেজের করা সেই গোলের ঠিক আগে মিশরের হামদি ফাতহিকে ডি-বক্সের ভেতর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জার্সি টেনে ধরেছিলেন বলে দাবি করে মিশর। তাদের মতে, এটি পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে হোসাম হাসান বলেন, "আমি ভাগ্যকে দোষ দিয়ে মিষ্টি কথা বলতে চাই না। আজ আমাদের সাথে অন্যায়ভাবে প্রতারণা করা হয়েছে, আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি। মাঠে কোনো ফেয়ার প্লে ছিল না। আমাদের পেনাল্টি চেক পর্যন্ত করা হয়নি, অথচ জার্সি টেনে ধরার বিষয়টি সবাই স্ক্রিনে দেখেছে।" এই অবিচারের প্রতিবাদে তিনি এই বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচই দেখবেন না বলে ঘোষণা দেন।

মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বিইন স্পোর্টসকে বলেন, "হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে রাখতে চেয়েছিল। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি যেন লড়াইয়ে টিকে থাকে। ফুটবলে কখনো কখনো মাঠের কৌশলের বাইরেও কিছু অদৃশ্য প্রভাব কাজ করে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সব স্তর থেকে সমর্থন পেয়েছে।"

সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা মিশর এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে চমকে দেয়। গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইবের দারুণ সব সেভ প্রথমার্ধে মিশরকে এগিয়ে রাখে। দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কোচ বলেন, "মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশ বাদে আমাদের দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই মিশরের ঘরোয়া লিগে খেলে। ইউরোপের পেশাদার পরিবেশে না খেলেও তারা বিশ্বসেরাদের সাথে যেভাবে টক্কর দিয়েছে, তাতে আমি গর্বিত।"

এর পাশাপাশি ম্যাচের সময়সূচি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসান। শেষ ৩২-এর ম্যাচের মাত্র চার দিন পর দুপুর ১২টায় (১৬:০০ জিএমটি) এই ম্যাচটি আয়োজন করায় তিনি বলেন, "যিনি এই সূচি তৈরি করেছেন, তিনি কখনো ফুটবল খেলেননি। দুপুর ১২টায় মানুষ হাঁটতে বের হয় বা ব্রঞ্চ (সকাল-দুপুরের মাঝামাঝি খাবার) খায়, ফুটবল খেলে না। খেলোয়াড়রা তাহলে কখন খাবে? সকাল সাড়ে ৭টায়? মাঠের ভেতরে ও বাইরে—সবকিছু নিয়েই আজ প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে।"

সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন