ক্রীড়া প্রতিবেদক: আয়োজনের কমতি ছিল না ভারতের। উৎসবের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু স্বাগতিক ভারতের সব আয়োজনে পানি ঢেলে দিলেন ট্রাভিস হেড। নিজের দেশের মাটিতে একের পর এক জয়ে বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট তকমা পেয়েছিল দেশটি। কিন্তু আসল ম্যাচে পথ হারাল রোহিত শর্মারা। তাদের সব স্বপ্নকে পায়ে ঠেলে আরো একবার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে ৬ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া।
স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। পরের ম্যাচেও হার তাদের। কিন্তু তারপর থেকে জয়ের ট্রাকে দেশটি। একের পর এক জয় পাওয়া দলটি ফাইনালেও তা অব্যাহত রাখলো। ফলে অপরাজিত থেকে ভারত যে স্বপ্ন দেখছিল তা চুরমার হয়েছে। প্রথমে ব্যাট করে ভারতের করা ২৪০ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়।
২৪১ রানে জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় খেলতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৪৭ রানে তিন উইকেট হারিয়েছিল দলটি। তারপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওপেনার ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেন দলকে কাঙ্খিত লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যান। দারুণ ব্যাটিং করেছেন হেড। ১২০ বলে ১৩৭ রান করেন তিনি। ১৫ বাউন্ডারি ও চার ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ৫৮ রানে অপরাজিত লাবুশেন। হেড আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসেই প্রথম বলে ২ রান নিয়ে দলকে জয় এনে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
ফাইনালে ম্যাচ রানের বন্যা বইয়ে দিতে পারেনি দারুণ সব ব্যাটারসমৃদ্ধ দল ভারত। আহমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার আমন্ত্রণে স্বাগতিক ভারত প্রথমে ব্যাট হাতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান করে। এই রান যে যথেষ্ঠ ছিল না পরবর্তীতে তার প্রমাণ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
ব্যাট হাতে ভারতের শুরুটা ভালোই ছিল। যদিও পঞ্চম ওভারে শুভমান গিলকে হারিয়েছিল তারা তবে অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও মিডল অর্ডার ব্যাটার বিরাট কোহলি দারুণভাবে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছিলেন। ওভার প্রতি প্রায় ৮ করে তারা রান স্কোরবোর্ডে জমা করে চলেছিল।
কিন্তু আর একটা ছোট্ট ঝড় বইয়ে দেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও প্যাট কামিন্স। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে রোহিত শর্মা ও নতুন ব্যাটার শ্রেয়াস আইয়েরকে হারায় ভারত। আর তাতেই শুরুর রানের গতি শুধু থেমে যায় তা নয়, পথও হারায় স্বাগতিকরা। রোহিত শর্মা ৪৭ রান করেন। আইয়েরের সংগ্রহ ছিল ৪ রান।
ভারতের সবচেয়ে বড় জুটিটা হয়েছে চতুর্থ উইকেটে। এ সময় বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল ৬৭ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ভারত পথ হারিয়ে ফেলে। একের পর একই উইকেট হারাতে থাকে তারা। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সই এ জুটিতে ভাঙ্গন ধরান। বোল্ড করেন কোহলিকে। ততক্ষেণে কোহলি তার নামের পাশে হাফ সেঞ্চুরি লিখিয়ে নিয়েছেন। ৬৩ বলে ৫৪ রান তার।
রোহিত শর্মা যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণ টর্নেডো গতিতে রান বেড়েছে। ৪৭ রানের ইনিংসটি খেলতে মাত্র ৩১ বলের মোকাবেলা করেছেন। চারটি বাউন্ডারি। আর ওভার বাউন্ডারি তিনটি। ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র রোহিত শর্মাই এদিন ওভার বাউন্ডারি মারতে পেরেছেন।
লোকেশ রাহুলও হাফ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার বোলাদের দারুণ বোলিংয়ে রাহুল ব্যাটিংয়ে মোটেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ৬৬ রান করেন তিনি। ১০৭ বলে এই রান করতে মাত্র একটি বাউন্ডারি মেরেছেন।
মূলত কোহলি ও রাহুল জুটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ভারতের রান রেটে ভাটা পড়ে যায়। আর কোনো ব্যাটারই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব নিতে পারেননি। শুধু তাই নয়, অন্য ব্যাটাররা ক্রিজে এসেছেন আর ফিরেছেন। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের পর শুধুমাত্র সূর্যকুমার যাদব (১৮) ও কুলদ্বীপ যাদব (১০) দুই অংকের রানের দেখা পেয়েছেন। বাকি ছয় ব্যাটারের কেউ দুই অংকের ঘরে যেতে পারেননি। এই ছয় ব্যাটারের মোট রান ছিল ৩৩।
অস্ট্রেলিয়ার সফল বোলার ছিলেন মিচেল স্টার্ক। ৫৫ রানে ৩ উইকেট শিকার তার। এছাড়া জস হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্স দুটো করে উইকেট নেন।

